supreme court

নয়াদিল্লি: সমস্ত মহিলাই নিরাপদ এবং আইনি গর্ভপাত প্রক্রিয়ার অধিকারী এবং এই বিষয়ে বিবাহিত এবং অবিবাহিত মহিলার মধ্যে কোনো ফারাক করা অসাংবিধানিক। গর্ভপাত ও বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে বৃহস্পতিবার যুগান্তকারী নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

সব মহিলারই আইনত ও নিরাপদে গর্ভপাতের অধিকার

অবিবাহিত মহিলারা অন্তঃসত্ত্বা হলে, গর্ভপাত করাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ছিল প্রশ্ন। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার যুগান্তকারী রায় দিল আদালত। বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত, সব মহিলারই আইনত ও নিরাপদে গর্ভপাতের অধিকার আছে। এ ব্যাপারে কোনো বৈষম্য করাকে অসাংবিধানিক বলে ধরা হবে বলে আজ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে অবিবাহিত মহিলারাও গর্ভপাত করাতে পারবেন।

‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ও ‘ধর্ষণ’ হিসেবে আদালতের স্বীকৃতি

বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি এএস বোপান্না এবং বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালার বেঞ্চের যুগান্তকারী রায়ে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ও ‘ধর্ষণ’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে গর্ভপাতের ক্ষেত্রে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ও ‘ধর্ষণ’ বলে মন্তব্য করেছে আদালত। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, বিবাহিত মহিলারও যৌন হেনস্থা বা ধর্ষণের শিকার হতে পারেন। বিনা সম্মতিতে স্বামীর আচরণে এক জন মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হতে পারেন।

প্রসঙ্গত, এ দেশে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’কে আইনি অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয় না। সেই নিরিখে শীর্ষ আদালতের এ হেন পর্যবেক্ষণ উল্লেখযোগ্য। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ‘মেডিক্যাল টার্মিনেশন অব প্রেগন্যান্সি অ্যাক্ট’-এর অধীনে ধর্ষণের সংজ্ঞায় অবশ্যই বৈবাহিক ধর্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এই পর্যবেক্ষণ বৈবাহিক ধর্ষণের বিষয়ে পরবর্তী রায়ের পথ প্রশস্ত করতে পারে, যা দেশে তীব্র বিতর্কের বিষয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “বিবাহিত মহিলারাও যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ থেকে বেঁচে যাওয়া শ্রেণির অংশ হতে পারেন। ধর্ষণ শব্দের সাধারণ অর্থ হল কারও সঙ্গে তাঁর সম্মতি ছাড়া বা তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন মিলন। বিবাহের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের জোর করে মিলন ঘটে কি না, তা বিবেচনা করা হয় না”।

আদালতের মতে, একজন মহিলার বৈবাহিক অবস্থা তাঁকে গর্ভপাতের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ভিত্তি হতে পারে না। বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের সর্বোচ্চ সময়সীমা ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত। এছাড়া ধর্ষণের শিকার, বিশেষভাবে সক্ষম বা নাবালিকা, পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সহবাসের পর কোনো অবিবাহিত মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে, এইসব বিশেষ ক্ষেত্রে ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত করা যেত। এই পরিস্থিতিতে আদালত বলেছে, এমনকী অবিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রেও ২৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। নইলে তা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

সুপ্রিম কোর্টের এই যুগান্তকারী রায়ের উৎস

সুপ্রিম কোর্টের এই যুগান্তকারী রায়ের উৎস ২৫ বছরের এক যুবতীর দায়ের করা মামলা। ওই মহিলা দিল্লি হাইকোর্টের একটি নির্দেশিকার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, তিনি অবিবাহিত হওয়ায় গর্ভপাত করতে দেওয়া হয়নি। সেই সময় তিনি ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

অভিযোগে তিনি জানান, তাঁর প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকার করেছেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়ো এবং বাবা-মা উভয়েই কৃষক। তাই, একজন সন্তানকে লালন-পালনের ক্ষমতা নেই তাঁর। এই পরিস্থিতিতে মেডিক্যাল বোর্ড মহিলার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সবুজ সংকেত দিতে ২১ জুলাই তাঁকে গর্ভপাতের অনুমতি দেয় আদালত। বেঞ্চ তখন বলেছিল, ২০২১ সালে সংশোধিত গর্ভপাত আইনের বিধানে এখন “স্বামী”-র পরিবর্তে “পার্টনার” শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালত আরও বলে, এতে বোঝা যায় সংসদ গর্ভপাতের পরিস্থিতিকে শুধুমাত্র একটি বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়নি।

খবর অনলাইন-এ আরও পড়ুন:

হিজাব বিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে, ‘লক্ষ্মণ রেখা’ টেনে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ওই মহিলার যাতে কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য একটি বোর্ড গঠন করে দেওয়া হয়। গর্ভপাতের অধিকার সংক্রান্ত বৈবাহিক অবস্থার প্রশ্নটি সমাধানের জন্য কেন্দ্রকে নোটিশ জারি করেছিল আদালত। গত ২৩ আগস্ট গর্ভপাত আইনের ব্যাখ্যার উপর নিজের রায় সংরক্ষণ করেছিল সর্বোচ্চ আদালত।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন