নয়াদিল্লি: ভারতকে পরিষ্কার করার জন্য বছর আড়াই আগে ঘটা করে স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যত্রতত্র শৌচকর্ম বন্ধ করার জন্য এই প্রকল্পের আওতায়েই দেশ জুড়ে শৌচালয় বানিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু দেখা যাচ্ছে অন্তত ষাট শতাংশ শৌচালয়ে জল নেই।

এই তথ্য উঠে এসেছে কোনো বেসরকারি নয়, বরং সরকারি একটি সমীক্ষায়। এর ফলে ২০১৯-এর মধ্যে ভারতে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম বন্ধ করানোর জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন প্রধানমন্ত্রী, সেটা যে ধাক্কা খেয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। সমীক্ষাটি করেছে ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে অফিস। সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিকাঠামোয় আগের থেকে অনেক উন্নতি ঘটানো হলেও, এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।

উল্লেখ্য, তিন বছর আগে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে সাড়ে তিন কোটি নতুন শৌচালয় তৈরি করা হয়েছে। তার ওপর শৌচালয় তৈরি করার জন্য গরিব পরিবারপিছু ৯,০০০ টাকা করে ভর্তুকিও দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু দেখা যাচ্ছে নতুন শৌচালয়গুলিতে জল না থাকার ফলে প্রায় ৫৫.৪ শতাংশ গ্রামীণ মানুষ এখনও শৌচকর্ম করার জন্য খোলা জায়গাকেই বেছে নিচ্ছে। অন্য দিকে শহুরে জনসংখ্যার সাড়ে ৭ শতাংশ শৌচকর্ম করতে যাচ্ছেন খোলা জায়গায়।

অতীতে এমনও দেখা গিয়েছে যে উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে জলের অভাবে নতুন শৌচালয়কে গুদামঘর বানিয়ে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গত তিন বছরে গ্রামীণ এলাকায় নতুন শৌচালয়ের সংখ্যা বাড়লেও শহরে তা কমে গিয়েছে।

সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে অসম, পঞ্জাব এবং ওড়িশায় স্বচ্ছ ভারতের প্রকল্পের আওতায় তৈরি হওয়া শৌচালয় পরিষ্কার করার জন্য কোনো সংস্থাকে নিয়োগ করা হয়নি। আরও জানা গিয়েছে যে ৪০ শতাংশ শৌচালয়ই কোনো নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নয়। এ রকম ক্ষেত্রে বেশির ভাগ গ্রামের শৌচালয়ের বর্জ্য পদার্থ স্থানীয় পুকুরে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। এর ফলে দূষিত হচ্ছে পুকুর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here