মনোহর পর্রীকর: ‘গির্জা এবং আরএসএসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী অনিচ্ছুক রাজনীতিক’

0
manohar parrikar
৬৩ বছর বয়সেই চলে গেলেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী।

ওয়েবডেস্ক: ঠিক এ ভাবেই গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত মনোহর পর্রীকরকে ব্যাখ্যা করলেন গোয়ার সাংবাদিক সচিন পরব। অযোধ্যায় করসেবক হওয়া থেকে গোয়ায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গী করে সরকার তৈরি করা, পর্রীকরের রাজনৈতিক জীবন বড়ো বর্ণময় বলে মনে করেন তিনি।

পরবের কথায়, পর্রীকর হিন্দুত্ববাদকে বর্জন না করেও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে তাঁর প্রভাব বিস্তার করেছেন। তিনি বলেন, “পদ্ম প্রতীকে ছ’ জন খ্রিস্টান জিতে বিধায়ক হচ্ছেন, এই ঘটনা আগে কখনও শুনেছেন? পর্রীকর এটাই সম্ভব করেছিলেন গোয়ায়।”

নিজের জন্য নিজের মতবাদকে কিছুটা বদলে দিতেও তিনি পিছপা হননি। আরএসএস প্রভাব থাকার ফলে প্রথমে গুডফ্রাইডেকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করার বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেটা শুধরে নেন। ওই সাংবাদিকের মতে, “সদ্ভাবনা যাত্রা আয়োজন করে গির্জায় গির্জায় ঘুরেছেন তিনি। খ্রিস্টান ধর্মগুরুদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নিজের জন্যই আরএসএসের মতবাদ থেকে কিছুটা বাইরে বেরিয়ে স্বতন্ত্র মতবাদ তৈরি করেছেন। তাঁর জন্যই গোয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে বিজেপি।”

ভেঙে গিয়েছে স্বাস্থ্য, নাকে নল। তাতেও কাজ করেছেন তিনি। গত ৭ মার্চও প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন মনোহর পর্রীকর।

পরবের কথায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীনও নিজের গোয়াকে খুব মিস করতেন পর্রীকর। তিনি বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন যখনই গোয়া এসেছেন, তখনই আমাকে বলেছেন, কী ভাবে এখানকার মাছের ঝোল-ভাত মিস করেন তিনি। ২০১৭-এ গোয়ায় ফিরে আসার যখন সুযোগ এল, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দ্বিতীয় বার ভাবতে হয়নি তাঁকে।”

পর্রীকরের সহজ সরল জীবনযাত্রাও অনেক রাজনীতিকের কাছে শিক্ষণীয় বলেই মনে করেন সচিন পরব। তাঁর কথায়, “গোয়া জুড়ে তাঁর সাধারণ জীবনযাত্রার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। নিজেদের ছেলেমেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, অটোয় ভ্রমণ করা, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবারের থালা হাতে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা। সত্যিকারের এক ২৪ ঘণ্টার রাজনীতিক ছিলেন তিনি।”

গোয়াকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন পর্রীকর। অবলীলায় এই কথাগুলি বলে দিলেন পরব। তবে সেই সঙ্গে এ-ও বলে দেন, তাঁর মৃত্যুতে গোয়া বিজেপি এখন বড়োসড়ো সংকটের মুখে। তিনি বলেন, “গোয়া বিজেপির কাছে এখন বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্ন। আমি জানি না, পর্রীকরের মতো কোনো মুখ দল আর খুঁজে পাবে কি না।”

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here