supreme court

নয়াদিল্লি: সমকামিতাকে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা উদ্বেগ দূর হবে, এইচআইভি ছড়ানোও ঠেকানো যাবে – এমনটাই মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। যে সব আইনজীবী সমকামিতাকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করার পক্ষে, তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একই লিঙ্গের যুগলকে যদি চিকিৎসার সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়, তা হলে যৌন রোগে সংক্রমিত হওয়া এবং তার সঙ্গে সেই রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা আরও বাড়ে।

সাবালকদের ব্যক্তিগত যৌন সম্পর্ককে অপরাধের সংজ্ঞা থেকে বের করে আনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন ওই বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি চন্দ্রচূড় মন্তব্য করেন, “কোনো কিছু চেপে রাখবেন না।”

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় সমকামিতা-সহ ‘প্রকৃতির শৃঙ্খলা-বিরুদ্ধ’ নানা যৌন ক্রিয়াকর্মকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। সেই ৩৭৭ ধারা বিলোপ করার বিপক্ষে যারা তাদের অন্যতম ‘ট্রাস্ট অফ গড মিনিস্ট্রিজ’। এদের আইনজীবী কে রাধাকৃষ্ণনকে বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা প্রশ্ন করেন, “তা হলে ভিন্ন লিঙ্গের মানুষরা এইচআইভি ছড়ান না?”

বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, “যৌন সম্পর্কের মধ্য দিয়ে রোগ ছোড়ানোর কারণ কিন্তু যৌন সম্পর্ক নয়, অরক্ষিত যথেচ্ছ যৌন সম্পর্ক। গ্রামের এক জন মহিলাও অভিবাসী স্বামীর কাছ থেকে এই রোগ পেতে পারেন। এই ভাবে কি আপনারা যৌন সংসর্গকেই অপরাধ হিসাবে গণ্য করতে চান?”

বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের সূত্র ধরে বিচারপতি রোহিনটন নরিম্যান বলেন, “নিষিদ্ধ করে সামাজিক বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করা যায় না।” বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের সঙ্গে একমত হয়ে বিচারপতি নরিম্যান বলেন, “আপনি বেশ্যাবৃত্তিকে লাইসেন্স দেন, তা হলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করুন, ভিক্টোরিয়া-যুগের কিছু নৈতিকতা মেনে তাকে কার্পেটের নীচে লুকিয়ে রাখবেন না। তা করলেই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়বে। সব ধরনের নিষিদ্ধকরণই ভুল পদক্ষেপ।”

চার্চগুলোর জোটের পক্ষে আইনজীবী মনোজ জর্জ বলেন, “সম্মতি থাক আর নাই থাক, কামজ ইচ্ছা ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী অপরাধ। এটা প্রকৃতির শৃঙ্খলা-বিরোধী কাজ।”

বিচারপতি চন্দ্রচূড় প্রশ্ন করেন, “তা হলে প্রকৃতির শৃঙ্খলামাফিক কাজ কী? শুধুমাত্র প্রজননের জন্য যৌনতা?”

২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যৌনতা, যৌন দৃষ্টিভঙ্গি এবং যৌন সঙ্গী বেছে নেওয়ার যে অধিকার সমকামী সম্প্রদায় ভোগ করেন তা লঙ্ঘিত হয় ৩৭৭ ধারায়। ৩৭৭ ধারা বিলোপের সমস্ত রকম ইঙ্গিত দিয়ে বিচারপতি নরিম্যান বলেন, মৌলিক অধিকারের মূল উদ্দেশ্যই হল, ৩৭৭ ধারার মতো ধারাগুলো বিলোপ করার ক্ষেত্রে আদালতকে ক্ষমতা দেওয়া।

এই মামলায় ৩৭৭ ধারার বৈধিতা নিয়ে কোনো মত প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সাবালকদের ব্যক্তিগত যৌন সম্পর্ককে অপরাধের সংজ্ঞা থেকে বের করে আনার এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান বেঞ্চ তার রায়দান স্থগিত রেখেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here