sonia gandhi

নয়াদিল্লি: তাঁর ছেলে এখনও তাঁরও ‘বস’। এই ভাবেই কংগ্রেস সাংসদদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সাংসদদের সামনে বক্তৃতা রাখতে দিয়ে সনিয়া গান্ধী বলেন, “রাহুল এখন আমারও বস, এই ব্যাপারে কারও কোনো সন্দেহ নেই।”

গত বছর ডিসেম্বরে তাঁর হাত থেকে রাহুল কংগ্রেসের সভাপতির ভার গ্রহণ করার পরে এটিই ছিল কংগ্রেসের সাংসদদের উদ্দেশে সনিয়ার প্রথম ভাষণ। রাহুলকে বস মানলেও কংগ্রেসের মূল চাবিকাঠি যে এখনও তাঁরই হাতে সেটাও ভালো করে বুঝিয়ে দিলেন সনিয়া।

সামনেই অনেকগুলি বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, সামনের বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে যাকে সেমিফাইনাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্বাচনগুলিতে কী ভাবে বিজেপিকে আটকানো হবে সে ব্যাপারে পথ বলে দেন সনিয়াই। অ-বিজেপি শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি যে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন সে কোথাও বলে দেন সনিয়া।

কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি বলেন, “সামনের বছরের নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত অবিজেপি, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করব। বিজেপি পরাজিত হলে দেশে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরে আসবে। আর্থিক দিক থেকেও অনেক এগিয়ে যাবে দেশ। কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার ফলে আমি এই উদ্দেশ্য সফল করার জন্য আমাদের সভাপতির সঙ্গে কাজ করব।”

এখন থেকে লোকসভা নির্বাচনের জন্য তৈরি হওয়ার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, “২০০৪-এর মতো এবারও নির্বাচন কিছুটা আগেই ডাকা হতে পারে।”

বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের তীব্র কটাক্ষ করেন সনিয়া। তিনি বলেন, “আর্থসামাজিক দিক থেকে দেশের অনেক এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সত্যিকারের ছবিটা অনেকটাই আলাদা। দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”

দেশে যে বিজেপি বিরোধী হাওয়া বাড়ছে, গুজরাত নির্বাচন এবং রাজস্থানের উপনির্বাচনের উদাহরণ দেখিয়ে তা বুঝিয়ে দেন সনিয়া। সেই সঙ্গে তিনি বার্তা দেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে মানুষের এই ক্ষোভকে কংগ্রেসের প্রতি সমর্থনে পরিণত করতে হবে।” কয়েকমাসের মধ্যে হতে চলা কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পক্ষে হাওয়া আরও শক্তিশালী হবে বলেও জানান সনিয়া।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন