নয়াদিল্লি : “কোনো তহবিল নেই, কোনো নীতি নেই, সামান্য সংখ্যক শিক্ষক। গত বারের ভুল এ বারে আর না করাই ভালো। উচিত সেই ভুল শুধরে নেওয়া”।  আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে সরকারের কী নীতি হওয়া উচিত তা নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমকে দু’ চার কথা বিশ্লেষণ করেছেন ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এনসিইআরটি) প্রাক্তন ডিরেক্টর তথা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৃষ্ণ কুমার।

অধ্যাপক কৃষ্ণ কুমার বলেন যা বলেছেন –

উচ্চশিক্ষা – উচ্চশিক্ষার উন্নতির জন্য দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। তাতে সাহায্য নেওয়া যেতে পারে ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন্যাল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো নানা সংস্থার। ভালো উদ্যোগ, প্রকল্প আর পরিকল্পনার জন্য অর্থের প্রয়োজন। সঙ্গে চাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। সেই সব না থাকায় ধুঁকছে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা। তিনি বলেন, শুধু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়েই বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে চার হাজার শিক্ষকের চাহিদা রয়েছে। সঙ্গে নেই ভালো গবেষণাগার, লাইব্রেরি। বহু জায়গাতেই তো সমস্যার চেহারাটা একই। বিশেষ করে গরিব রাজ্যগুলিতে আর্থিক টানাপোড়েন বেশি। সেই সব এলাকার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এই সমস্ত কিছুর জন্যই যেটি সব থেকে বেশি দরকার তা হল আর্থিক জোগান। গত বারের বাজেটে প্রয়োজনের প্রায় ৫০%-ই ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। সে ভুল এ বারে আর না করলেই মঙ্গল।

প্রাথমিক শিক্ষা – এই খাতে সরকারের উচিত যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করা। সরকারের সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্পকেই বাস্তব রূপ দিতে তৃণমূল স্তর থেকে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তার জন্যও দরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থিক জোগান। বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার আইনকে কার্যকর করতেও কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সাহায্য করা আবশ্যক। তা ছাড়া যথেষ্ট তহবিলের অভাবে মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়ে শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ধুঁকছে।

আরও পড়ুন : কেন্দ্রীয় বাজেটে রেল সম্পর্কে কী থাকতে পারে?

মাধ্যমিক শিক্ষা – মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থাও তথৈবচ। দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যে সব শিশু প্রাথমিক শিক্ষার পথ পেরিয়ে মাধ্যমিকের মুখোমুখি হয় তাদের সংখ্যা নিতান্তই কম। তাদের ক্ষেত্রে যে সমস্যা থাকে তা হল তারা এর জন্য পরিবারের সাহায্য মোটেই পায় না। খোঁজ নিলে দেখতে পাওয়া যাবে, বেশির ভাগই হয়তো পরিবারের প্রথম প্রজন্মের সদস্য, যে স্কুলে আসছে। তাই তিনি বলেন, সেই জন্যই মাধ্যমিক শিক্ষাকে বাজেটে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে তাদের পড়াশোনার মধ্যে আটকে রাখা যায়। স্কুলছুট না হয়।

বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ –  বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের অনেক সংস্থাই উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে। সেই সব সংস্থার উন্নতির স্বার্থে অংশীদারি ব্যবস্থার প্রবর্তন করা যায়। যাতে প্রতিষ্ঠানগুলি আধুনিক ভাবে সেজে উঠতে পারে এবং পড়ুয়াদের ঠিক ভাবে সাহায্যে করতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here