মমতার ব্রিগেড দেখেই ‘প্ল্যান বি’ তৈরির প্রস্তুতি সিপিএমের

সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রেখে আগামী লোকসভা নির্বাচনে একক লড়াইয়ের জন্য প্ল্যান-বি তৈরির প্রস্তুতি নিতেও শুরু করছে সিপিএম।

0
CPIM Brigade Rally

কলকাতা: ‘ঐক্যবদ্ধ ভারত’ বলা হোক বা ‘মোদী-বিরোধী মহাসম্মেলন’- তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশ যে আগামী লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই, সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু রাজ্যের শাসক দলের এই কর্মসূচিই দ্বন্দ্বে ফেলেছে সিপিএম-সহ অন্যান্য বামদলগুলিকে। কারণ, ওই সভায় এমন কয়েটি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে, যেগুলি আবার বামেদের সহযোগী।

শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দিয়েছে কংগ্রেস, এনসিপি, সমাজবাদী পার্টির মতো সহযোগী দলগুলির জাতীয় নেতৃত্ব। অন্য দিকে তামিলনাড়ু ও বিহারে সিপিআইয়ের সঙ্গে জোট প্রায় পাকা হয়ে গেলেও তৃণমূলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে ডিএমকের স্ট্যালিন এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। একই ভাবে ব্রিগেডে হাজির তরুণ দলিত নেতা ও গুজরাতের বিধায়ক জিগনেশ মেওয়ানিও। যিনি সিপিআই-‌ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত। স্বাভাববিক ভাবেই বামফ্রন্টে প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া এই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সম্পর্ক কী ভাবে বজায় রাখা হবে?

এ রাজ্যে কংগ্রেসের তরফেও তৃণমূল-বিরোধিতার কথা জোরের সঙ্গে বলা হলেও মমতাকে সমর্থন জানিয়েছেন খোদ রাহুল গান্ধী। ফলে আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বামফ্রন্ট ঠিক যে ভাবে আগাম পরিকল্পনা সাজিয়েছিল, তাতেই দেখা দিচ্ছে সংশয়। যদিও বাম নেতৃত্ব এ ব্যাপারে এখনই কোনো স্থির সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগ্রহী নন।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, “গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যয়বিচার ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতেই প্রকৃত জাতীয়তাবাদ ও উন্নয়ন সম্ভব বলে রাহুল গান্ধী যে বার্তা দিয়েছেন, তা যথার্থই। কিন্তু এই তিন প্রশ্নে রাজ্যের শাসকদলের ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাজ্যে তৃণমূলের নেতা ও দুর্বৃত্ত বাহিনী ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিজেপি এবং তৃণমূল সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে পরস্পরের পরিপূরক। বিভিন্ন নেতারা শনিবার কী অবস্থান নেন তার উপর লক্ষ্য রাখব আমরা এবং পরে যা বলার বলব”।

অন্য দিকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তৃণমূলকে আক্রমণ করলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাদের ব্রিগেডে অংশগ্রহণ নিয়ে সে ভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনিও বলেন, “আগে সমাবেশ হয় যাক। তারপর যা বলার বলব। তবে তৃণমূলের সঙ্গে যে বিজেপির আঁতাঁত আছে সেটা গোটা দেশ পরে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে”।

[ আরও পড়ুন: তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশের কয়েক ঘণ্টা আগেই জোট নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন সোমেন মিত্র ]

তবে আলিমুদ্দিনের অন্দর মহলে খবর, সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রেখে আগামী লোকসভা নির্বাচনে  ‘প্ল্যান-বি’ তৈরির প্রস্তুতি নিতেও শুরু করছে সিপিএম। পরিস্থিতি যদি তেমন হয়, তা হলে একক ভাবে লড়াইয়ে নামার জন্যই কাজে দেবে ওই প্ল্যান বি। সূর্যকান্ত থেকে বিমানবাবুর ‘পরে বলা’র মধ্যেই রয়েছে তার ইঙ্গিত! নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তার উত্তর মিলতে পারে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বামফ্রন্টের ব্রিগেড সমাবেশে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here