সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশেই হায়দরাবাদে ভুয়ো সংঘর্ষে খুন করা হয়েছে ৪ অভিযুক্তকে, দাবি মানবাধিকার কর্মীর

0
police
এই জায়গাতেই হয়েছিল এনকাউন্টার

ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদে তরুণী পশুচিকিৎসককে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার অভিযুক্তেরই মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। অভিযুক্ত আরিফ, নবীন, শিবা ও চেন্নাকেশাভুলুর এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর তেলঙ্গানা পুলিশ বাহিনী দাবি করেছে, ঘটনার পুনর্নিমাণ করতে নিয়ে যাওয়ার সময় পালানোর চেষ্টা করলেই গুলি চালানো হয় তাদের উদ্দেশে। যদিও পুরো ঘটনাকে সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে পরিকল্পনা মাফিক খুন বলে দাবি করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের পক্ষে রঞ্জিত সুর বলেন, একাধিক কারণে শুক্রবার ভোরের ঘটনা সাজানো বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপর মহলের নির্দেশেই যে পুলিশ আগাম ছক কষে এই ঘটনা সংগঠিত করেছে, সেটাও স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ছে।

প্রথমত, পুলিশের দাবি গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার পুনর্নিমাণ করতেই ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় অভিযুক্তদের। এমন পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থার পাশাপাশি পুনর্নিমাণের ভিডিওগ্রাফিও করার কথা পুলিশের। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ভিডিও পুলিশের তরফে সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়নি। ওই ভিডিয়োয় নিশ্চয় অভিযুক্তদের পালানোর চেষ্টা এবং তার জেরে পুলিশের উপর আক্রমণ, আত্মরক্ষায় পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনাসমূহ স্পষ্ট ভাবেই ধরা পড়ার কথা।

দ্বিতীয়ত, গত ২৯ নভেম্বর চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পর পর দিনই আদালত ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেয়। স্বাভাবিক ভাবেই তদন্তটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো সাক্ষীকেও হাজির করাতে পারেনি পুলিশ। অভিযুক্তরাই যে আসামি, সে কথা যেমন এখনও প্রমাণ হয়নি, তেমনই এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটাও জানা যায়নি। স্বাভাবিক ভাবেই সন্দেহ হচ্ছে, পাছে অন্য কোনো প্রভাবশালীর নাম চলে আসতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই চার জনের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হল না তো?

তৃতীয়ত, হায়দরাবাদকাণ্ডের পরেই গোটা দেশ জুড়ে একটা আন্দোলন গড়ে উঠছিল। সেই আন্দোলন বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার বিরুদ্ধে। ছ’বছর আগে দিল্লির নির্ভয়া-কাণ্ডে যে ভাবে বিচারের ঢিলেমি চলছে, সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে চাইছে সাধারণ মানুষ। শুধুমাত্র কলকাতা হাইকোর্টেই ৩২ জন বিচারকের পদ বর্তমানে শূন্য। বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার সমাধানে বিচারপতি নিয়োগ-সহ আনুষঙ্গিক কাঠামোর দাবি তুলে বৃহত্তর আন্দোলনে শামিল হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। তাৎক্ষণিক সমাধানের আবেগে ভাসিয়ে দিয়ে সেই আন্দোলনেও দাঁড়ি টেনে দেওয়া হল।

চতুর্থত, এক ডিসিপি পর্যায়ের পুলিশ আধিকারিক দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। সেই অভিযুক্তই না কি প্রথম গুলি চালায়। তার পরে পুলিশ নিজের আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এই ঘটনাকে সাতের দশকের বলিউড ছবির চিত্রনাট্যের সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকেই।

মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, দ্রুত বিচারের মাধ্যমেই এই সমস্ত মামলায় অপরাধীদের কঠিন শাস্তি দিতে হবে। তাই বলে বিচারব্যবস্থার দুর্বলতাকে ব্যবহার করে তালিবানি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে। রঞ্জিতবাবু বলেন, এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা গরিব মানুষ বলেই এত তাড়াতাড়ি তাদের বিরুদ্ধে এমন কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে পুলিশ-প্রশাসন। রাম রহিম, কুলদীপ সিং সেঙ্গার, নিত্যানন্দর মতো ধর্ষণে অভিযুক্ত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটাও গোটা দেশ দেখেছে।

হায়দরাবাদের ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবাদ আন্দোলনে নামতে চলেছে এপিডিআর। সংগঠনের দাবি, চার অভিযুক্তকে খুনের দায় স্বীকার করে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।

[ আরও পড়ুন: ‘এটাকেই বলে ন্যায়বিচার’, হায়দরাবাদ এনকাউন্টার-এ প্রতিক্রিয়া ]

প্রসঙ্গত, এনকাউন্টারের পর ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গড়ার নির্দেশ দিয়েছে তেলঙ্গানা সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.