রায়পুর: নকশাল দমনের নামে আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের কথা প্রকাশ্যে এনে কিছু দিন আগেই সাসপেন্ড হয়েছেন জেল আধিকারিক বর্ষা ডোঙ্গরে। বর্ষাদেবীর পাশে দাঁড়িয়ে সেই সাসপেনশন তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন একাধিক মানবাধিকার কর্মী।

বর্ষাদেবীর সাসপেনশনের তীব্র নিন্দা করে ‘ন্যাশনাল অ্যালায়ান্স অফ পিপলস মুভমেন্ট’ (এনএপিএম)-এর নামে, ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং এবং রাজ্যপাল বলরাম দাস ট্যান্ডনকে চিঠি দিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এই মানবাধিকার কর্মীদের তালিকায় রয়েছেন মেধা পটকর, অরুণা রায়, নিখিল দে, শঙ্কর সিং, প্রফুল্ল সমন্ত্র, অরুন্ধুতি ধুরু, কবিতা শ্রীবাস্তব, বিনায়ক সেন এবং আরও অনেকে।  চিঠিতে তাঁরা জানিয়েছেন, ডোঙ্গরে যা করেছেন তা সাংবিধানিক পরিধির মধ্যে থেকেই করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, “বর্ষাদেবীর ফেসবুক পোস্টটি পড়ে আমরা বুঝেছি নিজের সাংবিধানিক পরিধির মধ্যে থেকেই নিজের মত প্রকাশ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি ‘উন্নয়নের যজ্ঞ’ নিয়েও খুব প্রাসঙ্গিক প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।” চিঠিতে আরও বলে হয়েছে যে বর্ষাদেবীকে ইচ্ছেমতো সাসপেন্ড করা হয়েছে কারণ তিনি আদিবাসী মহিলাদের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন আদিবাসী-নিগ্রহের বিরুদ্ধে মুখ খুলে সাসপেন্ড হলেন রায়পুরের সেই জেল আধিকারিক

সুকমায় মাওবাদী হানায় সিআরপিএফ জওয়ানদের নিহত হওয়ার ঘটনারও তীব্র নিন্দা করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, বস্তারের রাজনৈতিক সমস্যা মেটানোর জন্য যে ভাবে সামরিক অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে তা যথেষ্ট নিন্দনীয়। তাঁরা বলেছেন, “নকশাল দমনের নামে যে ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে, রাজ্য সরকার তার দায় এড়িয়ে যেতে পারে না।”

বর্ষাদেবী নিজের ফেসবুক পোস্টে আদৌ পুলিশ বিভাগের কোনো গোপন তথ্য ফাঁস হয়নি, তা জানিয়ে এই মাননাধিকার কর্মীরা বলেছেন, “তিনি যা লিখেছেন তা জনগণ আগে থেকেই জানেন।” চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “একজন দক্ষ অফিসারকে সাসপেন্ড না করে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে সব অভিযোগ উঠছে, তার তদন্ত শুরু করুক রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকার এটা নিশ্চিত করুক যে এই সব অভিযোগের তদন্ত করবে তারা, পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদেরও শাস্তি দেওয়া হবে।”

বর্ষাদেবীর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে এই দাবি করে ওই কর্মীরা বলেন, “যাকে বর্ষাদেবীর ওই পোস্টের তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছিল, তিনি তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় পেলেও বর্ষাদেবীকে জবাব দেওয়ার জন্য মাত্র দু’দিন সময় দেন। বর্ষাদেবী দু’দিনের মধ্যেই জবাব দিয়েছিলেন কিন্তু তাঁর উত্তর যাচাই করার আগেই তাঁকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়।”

বর্ষাদেবীর সাসপেনশন দ্রুত রদ করার পাশাপাশি এই মানবাধিকার কর্মীদের প্রশ্ন, কোন যুক্তিতে এসআরপি কাল্লুরি এবং ইন্দিরা এলাসেলার মতো পুলিশ অফিসাররা মানবাধিকার কর্মী এবং সাংবাদিকদের ব্যাপারে বিতর্কিত মন্তব্য করার পরেও ছাড়া পেয়ে যান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here