aadhar linking deadline

ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে আধার নিয়ামক সংস্থা ইউআইডিএআই বারবার দাবি করেছে যে তাঁদের তথ্যভাণ্ডার একদম সুরক্ষিত। আধার তথ্য ফাঁস হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ইউআইডিএআইয়ের সেই দাবি উড়িয়ে প্রকাশ্যে এসে গেল প্রায় এক লক্ষ তিরিশ হাজার আধার ব্যবহারকারীর যাবতীয় তথ্য।

আধার তথ্য ফাঁসের এই ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশে। ঘূর্ণিঝড় হুডহুড-এ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন প্রকল্পে লাভবান ব্যক্তিদের তালিকা বেরিয়ে গিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের হাউসিং কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে। প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে ওই লাভবান ব্যক্তিদের ধর্ম, জাত এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য।

প্রত্যেক ব্যক্তির বাবার নাম, ঠিকানা, পঞ্চায়েত, মোবাইল নম্বর, রেশন কার্ডের নম্বর, আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নম্বর, আইএফএসসি, ধর্ম এবং জাত, সবই ওয়েবসাইটে ফুটে উঠেছে। তথ্য ফাঁস এমন ভাবে হয়েছে যে কোনো অসাধু মানুষ যদি ধর্ম এবং জাতের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের কোর্টে যান সেটাও তিনি পারবেন।

আধার তথ্য ফাঁসের এই ঘটনাটিকে প্রকাশ্যে এনেছেন হায়দরাবাদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক শ্রীনিবাস কোডালি। তিনি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র যে দাবি করেছে সেটাকে ভুল প্রমাণ করেছে এই তথ্য ফাঁস।

তিনি বলেন, “ইউআইডিএআই সুপ্রিম কোর্টকে বলেছিল যে আধার কার্ডকে কখনোই ধর্ম বা জাতের ভিত্তিতে মানুষের ওপরে নজরদারি চালানোর জন্য ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার যে ভাবে লাভবান ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে তাতে যে কেউ এই তথ্য যে কেউ কুকাজে ব্যবহার করতে পারে।”

তিনি বলেন, “এই তথ্য ফাঁসের পেছনে ইউআইডিএআইয়ের কোনো হাত নেই। কিন্তু এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে ইউআইডিএআইকে অন্ধকারে রেখেও আধার তথ্য ফাঁস করা যায়।”

শ্রীনিবাস আরও দাবি করেছেন, “এটাই প্রথম তথ্য ফাঁস নয় আর এটাই শেষ ফাঁস নয়। এই ওয়েবসাইটটি দেখা খুবই সহজ এবং সব ফাইল ডাউনলোড করে নেওয়া যায়।”

এই ব্যাপারে অন্ধ্র সরকারের জবাব চাওয়া হলে তারা জানিয়েছে যে এই ব্যাপারে তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। তাদের কথায়, “আমরা এই ব্যাপারে তদন্তের কাজ শুরু করেছি। সেই কাজ শেষ হলে আপনাদের সব কিছু জানিয়ে দেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here