Adultery in india

ওয়েবডেস্ক: বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থেই ‘ব্যভিচার’ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবেই বিবেচনাযোগ্য। বুধবার সু্প্রিম কোর্টে এফিডেভিট জমা করে এমনটাই জানাল কেন্দ্র।

ব্যভিচারে স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে উভয়পক্ষকেই সমান দায়ী করার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন জোসেফ শাইন। সেই আবেদনের প্রত্যুত্তরে কেন্দ্রের তরফে দাখিল করা এফিডেভিটে বলা হয়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৭ নম্বর ধারাটি বৈবাহিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে সহায়তা দিয়ে আসছে।

তবে প্রায় ১৫৭ বছরের পুরনো ব্রিটিশ জমানায় রচিত ওই আইনে স্পষ্টতই বলা হয়েছে, কোনো বিবাহিত পুরুষ যদি নিজের স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে অন্য কোনো মহিলার সম্মতিতে তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন, সেই ব্যভিচারের জন্য পুরুষকেই দায়ী হতে হবে। আবার এই যৌন সম্পর্কে মহিলার স্বামীর সম্মতি থাকলে, তা ধর্ষণ বা ব্যভিচার বলে গণ্য হবে না। সে ক্ষেত্রে মহিলা সম্পূর্ণ ছাড় পেলেও ব্যভিচারী পুরুষের পাঁচ বছরের কারাবাস এবং তার সঙ্গে আর্থিক জরিমানা হবে।

এ বছরের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টে এই আইনের সাংবিধানিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করা মামলা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি বেঞ্চ তৈরি করে। সুপ্রিম কোর্ট মূলত দুটি বিষয়ের উপরই গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমত, ৪৯৭ ধারায় শুধুমাত্র পুরুষকে ব্যভিচারী হিসাবে শাস্তি পেতে হয়। দ্বিতীয়ত, মহিলার স্বামীর সম্মতি থাকলে তা ব্যভিচার বা ধর্ষণ হিসাবে গণ্য হয় না। অর্থাৎ, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহিলাদের সম্ভ্রমও কি পুরুষের দয়াভিক্ষার উপর নির্ভরশীল?

একই সঙ্গে ওই পিটিশনে ১৯৮ ধারার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ব্যভিচারে লিপ্ত মহিলার স্বামী দ্বিতীয় পুরুষটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন। কিন্তু ব্যভিচারে লিপ্ত পুরুষটির স্ত্রী মামলা দায়ের করতে পারেন না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here