খবরঅনলাইন ডেস্ক: এক দিকে কোভিড পরিস্থিতি, অন্য দিকে বন্যা। কোভিড আটকাতে লকডাউনের কারণে মানুষের রুজিরুটি মার খাচ্ছে, অন্য দিকে বন্যায় বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে নষ্ট হচ্ছে ফসল।

অসমের পর এ বার বন্যার কবলে পড়েছে বিহারও। সব মিলিয়ে গরিব মানুষের অসহয়তা ক্রমশ বাড়ছে।

বিহারে দুর্গত প্রায় ৫ লক্ষ

উত্তর বিহারে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। রাজ্যের এই প্রান্তে সব নদীই বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। তবে সব থেকে খারাপ পরিস্থিতি বিহারের দুঃখ হিসেবে পরিচিত কোশী নদীর।

রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর বুধবার রাতে জানিয়েছে যে এখনও পর্যন্ত ১০টি জেলার সাড়ে চার লক্ষ মানুষ বন্যায় দুর্গত। এর মধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ১৩ হাজার মানুষ। এখনও পর্যন্ত ১৬টি ত্রাণশিবির তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ৪,৮৪৫ জনকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

বন্যায় সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে সীতামাঢ়ী, সেওহর, সুপৌল, কিষাণগঞ্জ, দ্বারভাঙা, মুজফ্‌ফরপুর, গোপালগঞ্জ, পূর্ব চম্পারন, পশ্চিম চম্পারন আর খাগাড়িয়ায়।

তবে স্বস্তির খবর একটাই যে এখনও পর্যন্ত এই রাজ্যে বন্যায় কারও মৃত্যু হয়নি।

এই মরশুমে বিহার-নেপালে অতি সক্রিয় বর্ষা। শুরু থেকেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে সেখানে। গত কয়েক দিনে বৃষ্টির দাপট আরও বেড়েছে। আর সেই কারণে কোশী বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

কোশীর পাশাপাশি বুধি, গন্ডক, কমলাবালান আর লাল বাকেয়া নদীও বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। তবে রাজ্যের সব নদীবাঁধ শক্তপোক্তি রয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী সঞ্জয় ঝা।

অসমে মৃত বেড়ে ৮৯, বিপর্যয় মেঘালয়েও

অসমে বন্যায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৯। এর পাশাপাশি বিপর্যয় ঘটেছে মেঘালয়েও।

আসাম স্টেট ডিজাজটার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বন্যায় ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর সঙ্গে ধসের কারণে ২৬ জনের মৃত্যু যোগ করলে এই মরশুমে বৃষ্টিজনিত কারণে অসমে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১১৫।

রাজ্যের ২৬টি জেলার বন্যা পরিস্থিতি বেশ খারাপ। তার মধ্যে বরপেটা, বঙ্গাইগাঁও, ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া আর কোকরাঝাড়ের পরিস্থিতি বেশ খারাপ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২৬ লক্ষ ৩১ হাজার ৩১৩ জন বন্যায় দুর্গত হয়েছেন।

কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে এখনও পর্যন্ত ১২০টি বন্যজন্তুর মৃত্যু হয়েছে। ১৪৭টি জন্তুকে নিরাপদে উদ্ধার করে উদ্যানের উঁচু জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বুধবার অসমের জন্য ৩৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।

এ দিকে মেঘালয়েও বন্যায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ রাজ্যের পশ্চিম গারো হিল্‌স জেলায় কিছু সমতল অঞ্চল রয়েছে যেটা অসমের ধুবূরি আর গোয়ালপাড়া জেলার সঙ্গে সংযুক্ত। অসমের বন্যার প্রভাব তাই এই জেলাতেও পড়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ১৯৫টি গ্রামে দেড় লক্ষ মানুষ বন্যায় দুর্গত।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন