gau rakshaks madhya pradesh

ভোপাল: গত বছর কৃষক বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌর। পুলিশের গুলিতে পাঁচজন কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় চাপে পড়ে গিয়েছিল শিবরাজ সিংহ চৌহান নেতৃত্বাধীন মধ্যপ্রদেশ সরকার। কৃষক বিক্ষোভ এখন বন্ধ হয়েছে, কিন্তু শিবরাজের চাপ কমেনি। কারণ এ বার তাঁর পেছনে পড়েছে গোরক্ষকরা।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। যে শিবরাজ সিংহ নিজেকে গরুর রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করেন, যে দল গোরক্ষার্থে কঠোর আইন আনার কথা বলে, তাদের বিরুদ্ধেই কি না বিক্ষোভ দেখাচ্ছে গোরক্ষকরা।

গরুকে রক্ষা করার জন্য কয়েক দিন আগেই একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন শিবরাজ। ২০০৪-এ রূপায়িত হওয়া গোহত্যা প্রতিরোধ আইন সংশোধন করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। আইন সংশোধন হলে গোহত্যাকারীর সর্বোচ্চ সাত বছরের জেল এবং ৫,০০০ টাকার জরিমানা হবে। কিন্তু এতেও মন গলেনি গোরক্ষকদের। বরং তারা এখন সরাসরি মধ্যপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে।

কী দাবি গোরক্ষকদের?

তাদের দাবির তালিকাটা বেশ বড়ো। প্রথমত গো-শালা তৈরির জন্য নতুন জমির দাবি করেছে তারা, দ্বিতীয়ত গবাদি পশুর খাবারে ভর্তুকির দাবি রয়েছে। তাদের তৃতীয় দাবি, পঞ্চায়েত স্তরে গোরক্ষক নিয়োগ এবং তাদের চতুর্থ দাবি হল পশুসম্পদ দফতরে গোরক্ষকদের জন্য পঞ্চাশ শতাংশ সংরক্ষণ।

গোসেবক সংঘের সভাপতি রাজেশ ঢোলপুরের দাবি, বিজেপি সরকার যতই গোরক্ষক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরুক, গরুর জন্য এবং গরুর রক্ষাকর্তাদের জন্য তারা কিছুই করেনি। তাঁর দাবি, এক বছর আগেও যখন এই দাবিগুলো করা হয়েছিল, তখন পশুসম্পদ মন্ত্রী বলেছিলেন দাবি পূরণ করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই দাবি মানা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর দাবি, গত ১৫ বছর ধরে গোরক্ষার উদ্দেশ্যে পশুসম্পদ দফতরের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন তাঁরা। “কিন্তু এর বিনিময়ে কিছু পাইনি আমরা। তাই ঠিক করেছি, এ বার আমরা মুখ্যমন্ত্রীর বাসস্থান ঘেরাও করব। বলপ্রয়োগ করে নিজেদের দাবি আদায় করা হবে,” ক্ষোভপ্রকাশ করেন ঢোলপুরে। একই ক্ষোভ রয়েছে ভোপাল জেলা গোপালন সমার্ধন সমিতির সহ-সভাপতি গোবিন্দ ব্যাসের।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন