ওয়েবডেস্ক: মাস খানেক আগেও খবরের কাগজের প্রথম পাতায় নিয়মিত আলোচনা চলছিল তাঁকে নিয়ে। এখন সে সব থিতিয়ে গিয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন হরিয়ানার  ডেরা সচা সৌদা প্রধান বাবা গুরমিত রাম রহিম। ২০০২ সালে তাঁর দুই ভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০ বছরের জেল হয়েছে বাবা রাম রহিমের। বাবার না হয় জেল হল, কিন্তু কেমন আছে ৮০০ একর জুড়ে ছড়ানো তাঁর রাজ্যপাট?

আরও পড়ুন: কারাবাস থেকে মুক্তির জন্য মরিয়া ধর্ষক বাবা রাম রহিম

কার্যত নাকি বন্ধই হয়ে পড়েছে ডেরা সচা সৌদার সমস্ত রকম ব্যবসা। আটার কারখানা থেকে শুরু করে, পানীয় জলের বোতল, গাড়ির ব্যাটারি, কনফেকশনারি, অ্যালোভেরার চাষ একেবারে বন্ধ। সব মিলিয়ে ২১০০ কোটির ব্যবসা। রাম রহিমের গ্রেফতারের পর শ্মশানে পরিণত হয়েছে ডেরা এবং সংলগ্ন অঞ্চল। ডেরাকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটা জনজীবন তিল তিল করে এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে। আশেপাশের হোটেল-রেস্তোরাঁ, শপিং মল, সিনেমা, পেট্রোল পাম্প, সংবাদপত্রের দফতর – সব বন্ধ। রাস্তাঘাটও খাঁখাঁ করছে।

সৌদা প্রধান গুরমিত রাম রহিমের সাজা ঘোষণার পরবর্তী হিংসার জেরেই না কি সারা উত্তর ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। দাঙ্গায় আহতের সংখ্যা ৩০০-এর বেশি। এখন নেতৃত্বের সংকটে ভুগছে রাম রহিমের ডেরা। গত সপ্তাহে সচা সৌদা-র প্রতিষ্ঠাতা শাহ মস্তানা বালোচিস্তানির জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে একটু যেন প্রাণ ফিরেছিল শ্মশানপুরীতে। হাজার চারেক ভক্তের সমাবেশ হয়েছিল। এ ছাড়া লোকজন ভক্তদের প্রায় দেখাই মেলে না ডেরায়। বাবা রাম রহিমের ঘনিষ্ঠ ভক্তদের অনেকেরই কোনো খোঁজ নেই এখন। সচা সৌদার সভাপতি বিপাসনা ইনসান নাকি সপ্তাহ কয়েক ধরে অসুস্থ। ও দিকে রহিম-পুত্র জসমিত ইনসানের এ সবে আগ্রহ নেই। হরিয়ানার এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “বিপদ বুঝে এখন সবাই নিজের গা বাঁচাতে ব্যস্ত”।

পড়ুয়া কিংবা রোগী, ডেরার হাসপাতাল, স্কুল, কলেজে আসা কমিয়ে দিয়েছে সবাই। সচা সৌদা-র মধ্যে যেখানে মাস দুয়েক আগেও ১০০০০ লোক থাকতেন, রাতারাতি তা নেমে এসেছে শ আটেকে। ব্যবসা বন্ধ। ভক্তদের আনাগোনাও ক্রমশ কমছে। এই অবস্থায় কে হাল ধরবে সত্তরে পা দেওয়া সচা সৌদার? সম্ভাব্য ভরসার জায়গা একটাই – রাজনৈতিক মহল। গত মাসে হরিয়ানা বিধানসভার অধিবেশনে ঠিক হয় দাঙ্গায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। বিজেপি, কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলও সমর্থন করেছে এই সিদ্ধান্তকে। বিগত এক দশক ধরে ভোট ব্যাঙ্কের সমীকরণটা তো অনেকটাই দাঁড়িয়ে রয়েছে ডেরা সচা সৌদা-র ওপর।

সৌজন্য: হিন্দুস্তান টাইমস

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here