পদত্যাগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির সমর্থনে ফের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ কুমার

0
387
nitish kumar BJP JDU

পটনা: কিছু দিন ধরেই যার আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল তাই সত্যি হল। শেষ পর্যন্ত বিজেপির সমর্থনেই নিজের মুখ্যমন্ত্রিত্ব রক্ষা করলেন নীতীশ কুমার। এর জন্য একটা অভিনব নজির গড়লেন তিনি। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বৃহস্পতিবারই ফের শপথ নিয়ে ওই পদে ফিরে আসতে চলেছেন। বিজেপি নেতা সুশীল মোদী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, নীতীশ কুমারের অধীনে কাজ করতে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যই বোধ করবেন। নীতীশ কুমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে ১২৫ কোটি দেশবাসী নীতীশ কুমারজিকে সমর্থন জানাচ্ছে।”

উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব-সহ আরজেডি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে বুধবার পদত্যাগপত্র পেশ করেন নীতীশ কুমার। তার আগে তিনি জেডি (ইউ) বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁরা নীতীশের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে সায় দেন। বুধবারই আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব জানিয়ে দেন, তাঁর পুত্র তেজস্বী উপমুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেবেন না। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেননি। লালুপ্রসাদের এই ঘোষণার পরেই নীতীশ কুমার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, ‘জমির বদলে হোটেল’ দুর্নীতি মামলায় তেজস্বীর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সিবিআই।

নীতীশ কুমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানার পর লালুপ্রসাদ রাজ্যের বর্তমান সংকটের জন্য বিজেপিকে দায়ী করে সাংবাদিকদের বলেন, “তাদের সাহায্যে নীতীশের ফিরে আসার দিকে সাগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে বিজেপি। তবে নীতীশ কুমার জানেন, তিনিও ৩০২ ধারায় অভিযুক্ত। ভারতের অন্যতম মুখ্যমন্ত্রী যিনি হত্যা ও অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত।”

সংবাদমাধ্যমকে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নীতীশ কুমার বলেন, রাজ্যের স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। “যে দিন থেকে আরজেডি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সে দিন থেকে তাঁদের বলে আসছি অন্তত পক্ষে ওই অভিযোগগুলি তাঁরা ব্যাখ্যা করুন। আমরা তেজস্বীর সঙ্গেও দেখা করেছি, বলেছি যে ভাবমূর্তি তৈরি হচ্ছে তার প্রেক্ষিতে তাঁর সব কিছু পরিষ্কার করে বলা উচিত। কিন্তু কিছুই হল না। পরিস্থিতি এত খারাপের দিকে গেল যে আমার পক্ষে কাজ করাই কঠিন হয়ে উঠল। আমরা জোটবন্ধনের ধর্ম পালন করেছিলাম এবং জোট রক্ষার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমার বিবেক আমাকে চালাতে দিল না।”

নীতীশ বলেন, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে রাহুল গান্ধী-সহ অন্য কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। “বিহারে কংগ্রেসের অনেক নেতা আছেন। এ ব্যাপারে একটা সমাধান খুঁজে বার করার জন্য আমি তাঁদেরও বলেছিলাম। এখন আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

নীতীশ কুমারের পদত্যাগের খবর পেয়েই বিজেপি এমএলএ-রা বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর সুশীল মোদী জানিয়ে দেন, তাঁরা বিধানসভার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পক্ষপাতী নন। তাঁরা চান বিধায়করা তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করুন। সুশীল মোদী জানান, তিনি এবং নিত্যানন্দ রাই নীতীশজিকে ফোন করে তাঁদের সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। ও দিকে বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠক বসে। সেখানেও বৈঠকের পর দলের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিজেপি বিধানসভার মধ্যবর্তী নির্বাচন চায় না।

রাত ন’টার কিছু পরে বিজেপি ও জেডি (ইউ) বিধায়করা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে দেখা করতে যান। এর পর সাড়ে ১০টা নাগাদ সুশীল মোদী তাঁর দলের তরফে সমর্থনের চিঠি রাজ্যপালের কাছে পেশ করেন। কিছু ক্ষণ পর রাজভবন সূত্রে জানানো হয়, নীতীশ কুমার বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ফের শপথ নেবেন।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here