চেন্নাই: নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা হওয়ার পর প্রথম চৌত্রিশ দিনে ক্ষুদ্র শিল্পে অন্তত ৩৫ শতাংশ লোক কাজ হারিয়েছেন। এমনই জানাল ভারতীয় নির্মাণকারীদের বৃহত্তম সংস্থা। সেই সঙ্গে ক্ষুদ্র শিল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ রাজস্ব কমেছে বলে দাবি তাদের।

এখানেই না থেমে মার্চের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে ৬০ শতাংশ আর রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে ৫৫ শতাংশ হওয়ারও পূর্বাভাস দিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া ম্যানুফ্যাকচারার্স অর্গানাইজেশন’ (এআইএমও)। অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি আর বড়ো, সব মিলিয়ে সারা দেশে প্রায় তিন লক্ষ নির্মাণকারী সংস্থাকে প্রতিনিধিত্ব করে এআইএমও।

একটি সমীক্ষা করে এআইএমও জানিয়েছে, নোট বাতিলের ফলে বেশির ভাগ শিল্পে ক্রিয়াকর্ম থমকে গিয়েছে এবং অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র শিল্পের অবস্থা সব থেকে খারাপ। তাদের মতে, “নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর শিল্পে যে কিছুটা ধাক্কা লাগবে সেটা এআইএমও বুঝেছিল, কিন্তু তার প্রভাব যে এক মাসের বেশি থাকতে পারে সেই আন্দাজ করা যায়নি।”

সমীক্ষায় আরও যে সব ফলাফল বেরিয়ে এসেছে সেগুলি হল:

• যে সব মাঝারি এবং বড়ো শিল্প পরিকাঠামোগত কাজে যুক্ত, তারা ৪৫ শতাংশ রাজস্ব হারিয়েছে আর ৩৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। মার্চের মধ্যে কর্মী ছাঁটাই ৪০ শতাংশে ঠেকতে পারে।

• যে সব মাঝারি এবং বড়ো শিল্প যারা আমদানি-রফতানির কাজে যুক্ত তাদের ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই আর ৪০ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। মার্চের মধ্যে কর্মী ছাঁটাই ৩৫ শতাংশ আর রাজস্ব ঘাটতি ৪৫ শতাংশ ছুঁতে পারে।

 সেই সব মাঝারি এবং ক্ষুদ্র শিল্প যারা নির্মাণকাজে যুক্ত সেখানেই সব থেকে কম কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। নোট বাতিলের প্রথম ৩৪ দিনে ৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই হয়েছে তাদের, রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ২০ শতাংশ।

• নোট বাতিলের পর নগদের অভাব, টাকা তোলার নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা, কর্মীদের অনুপস্থিতি, ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম কমে যাওয়া, বিদেশিদের মধ্যে ভীতি, অপ্রস্তুত থাকা এবং জিএসটি নিয়ে অনিশ্চয়তা, শিল্পের এই রুগ্ন দশার পেছনে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সমীক্ষাকারীদের পরিচয় না বললেও এআইএমওর সভাপতি কে ই রঘুনাথন জানিয়েছেন, শিল্পপতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, আমদানি-রফতানি বিশেষজ্ঞ, চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্টান্ট, আইনজীবীদের নিয়েই এই সমীক্ষা দলটি তৈরি হয়েছিল। রঘুনাথন আরও বলেন, নভেম্বরের ১২, ২৫ আর ডিসেম্বরের ১২ তারিখ তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট বাণিজ্য মন্ত্রক এবং অর্থ মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তাদের তরফ থেকে কোনো উত্তর আসেনি।

তিনি বলেন, “মন্ত্রক থেকে কোনো পাত্তাই দেওয়া হয়নি এই রিপোর্টকে। তারা শুধু চোখ বন্ধ করে নিজেদের পিঠ চাপড়াতে ব্যস্ত। রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্র আর তামিলনাড়ুর অবস্থা সব থেকে খারাপ। এক দিকে তামিলনাড়ুর অদক্ষ সরকার, অন্য দিকে মহারাষ্ট্রের সরকার তো যে করেই হোক নোট বাতিলের সমর্থক। এর জন্য এই দুই রাজ্যের অবস্থাকে কোনো অগ্রাধিকারই দেওয়া হচ্ছে না।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here