লখনউ: সোমবার বাবা জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে জিতলে ছেলেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবে। তাতেই হয়তো রফার একটা সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন ছেলে। মঙ্গলবার সকালেই তাই ছুটে গিয়েছেন বাবার কাছে। একান্তে কথা হয়েছে দু’ জনের, প্রায় ৯০ মিনিট ধরে। আপাতত মুলায়ম সিং যাদব-অখিলেশ যাদব সংবাদ এটাই।

গত কয়েক দিন ধরে চলা সমাজবাদী পার্টির অভ্যন্তরীণ কোঁদলে মুলায়ম কখনোই বলেননি, অখিলেশই মুখ্যমন্ত্রী পদের অধিকারী। বরাবরই বলে এসেছেন, উত্তর প্রদেশে সপা যদি ক্ষমতায় আসে তা হলে তিনিই ঠিক করবেন, কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এত দিন পরে এই সোমবারই ভাবী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে অখিলেশকে তুলে ধরলেন মুলায়ম। বললেন, “ভোটের পর অখিলেশই হবে মুখ্যমন্ত্রী, এ ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই।”

বাবার বক্তব্য শুনে ছেলের মনে হয়েছে, এত দিনে বোধহয় বরফ গলেছে। তাই সকালেই গেলেন বাবার কাছে। লাগোয়া বাংলো, তখন ছিলেন না কেউ অর্থাৎ বাবার সাঙ্গোপাঙ্গরা। নেই শিবলাল যাদব, নেই অমর সিং। খবর পেয়ে ততক্ষণে চলে এসেছেন সাংবাদিককুল। কিন্তু বাবার সঙ্গে কথা বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ছেলে ফিরে গেলেন নিজের বাংলোয়।

গত সপ্তাহে দু’ জনের এ রকমই এক একান্ত বৈঠকের পর পার্টি আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছিল। বাবাকে সরিয়ে ছেলে দলের প্রধান হয়েছিলেন। দলের ভিতরের খবর যাঁরা রাখেন, তাঁদের মত, ছেলের সঙ্গে একান্তে কথা বলবেন বলেই শিবলাল আর অমরকে এ দিনের বৈঠকে ডাকেননি মুলায়ম। আর এখানেই মিটমাট নিয়ে একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, ছেলের সঙ্গে চূড়ান্ত মিটমাট চান বলেই এ দিনের বৈঠকে ওই দু’ জনকে রাখেননি মুলায়ম। তিনি জানেন, অখিলেশের দিক থেকে মিটমাটের প্রথম শর্তই হল, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থেকে শিবলাল-অমরকে হটাতে হবে। কারণ, অখিলেশের অভিযোগ, এঁরা দু’ জনই ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে প্ররোচিত করেন। তবে ওই দু’জনকে সরানোর দাবি মুলায়ম মানবেন কি না তা জানা যায়নি।

ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার জানিয়ে দিয়েছে, সপার কোন গোষ্ঠী ‘সাইকেল’ প্রতীক পাবে তা নিয়ে শুক্রবার শুনানি হবে। এ নিয়ে দলের দুই গোষ্ঠীকেই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কমিশন ১৭ জানুয়ারির আগে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে চায়। কারণ সে দিন উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র পেশ শুরু হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here