নয়াদিল্লি: জল্পনা, দাবি, পাল্টা দাবির অবসান। সমাজবাদী পার্টির নির্বাচনী প্রতীক সাইকেল গেল অখিলেশ শিবিরের দখলে। সোমবারই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আসন্ন বিধানসভা ভোটে সমাজবাদীর পার্টি কার দখলে থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাও শেষ হল।

গত ১ জানুয়ারি দলীয় সভা ডেকে সমাজবাদী পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন অখিলেশে। বাবা মুলায়মকে করেছিলেন দলের মার্গদর্শক। তারপর থেকেই তুমুল আকার নেয় দলীয় কোন্দল। মুলায়মের পক্ষে তাঁর তুতো-ভাই শিবপাল যাদব ও আরএক নেতা অমর সিং। অন্যদিকে অখিলেশের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর আরএক কাকা রামপাল যাদব।

১ জানুয়ারির পর থেকে দুপক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে পার্টির প্রতীক সাইকেল নিজেদের দখলে রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। দলের বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধি যে তাদের সঙ্গেই আছেন, তা জানিয়ে বিস্তর নথিও পেশ করেছিলেন তাঁরা। বসে থাকেননি নেতাজিও। ভাই শিবপাল ও সঙ্গী অমর সিং-কে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জানিয়ে এসেছেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা তিনি, তাই সাইকেল তাঁরই।

কিন্তু কমিশন মেনে নিল ছেলে ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং-এর দাবিই।

ইতিমধ্যে অবশ্য বাবা ও ছেলের মধ্যে বোঝাপড়ার চেষ্টা হয়েছে বহু। দু’জনে বৈঠকও করেছেন একাধিকবার। কিন্তু সমাধানসূত্র মেলেনি। এমনকি সোমবার সকালেও মুলায়ম বলেছেন, তিনি ছেলেকে বারবার বোঝানের চ্ষেটা করেছেন, কিন্তু অখিলেশ তাঁর কথছা শোনেনি।

আরও একধাপ এগিয়ে মুলায়ম এদিন অভিযোগ করেন, অখিলেশের ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় মুসলিম নাম তেমন একটা নেই। সেটা নাকি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।

দলের প্রার্থী বাছাই নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই লড়াই চলছিল বাবা-ছেলের। প্রাকাশ্য মঞ্চে বাদানুবাদ পর্যন্ত পৌঁছয় সেই লড়াই। চলে বহিষ্কার, পাল্টা বহিষ্কারের পর্ব।

কোনো কোনো মহলের অবশ্য দাবি, সবই ছিল বাবা-ছেলের গটআপ। ছেলেকে দলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করতেই এই নাটক চালিয়েছেন মুলায়ম। যাতে ঘনিষ্ঠ নেতাদেরও তুষ্ট রাখা যায় আর পরিবারের স্বার্থও রক্ষা হয়।

সাইকেলের দখল সরকারি ভাবে অখিলেশ পাওয়ার পর মুলায়ম এবং অমর সিং-এর মতো তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতারা কী পদক্ষেপ করেন, সেটাই দেখার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here