লখনউ: উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে আবারো নাটকীয় মোড়। প্রায় অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সমাজবাদী পার্টির প্রেসিডেন্ট হলেন অখিলেশ যাদব। দলের সাধারণ সম্পাদক ও মুলায়মের তুতো-ভাই রামগোপাল যাদবের ডাকা জাতীয় সম্মেলনে দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হল অখিলেশ যাদবের নাম। সভায় রামগোপাল বলেন, বৃদ্ধ নেতা মুলায়মের উচিৎ দলের ‘চিফ মেন্টর’-এর ভূমিকা পালন করা। সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রায় প্রায় পাঁচ হাজার নেতা-কর্মী। সভা থেকেই বহিষ্কার করা হয় দলের উত্তর প্রদেশের রাজ্য সভাপতি শিবপাল যাদব এবং রাজ্যসভার সাংসদ অমর সিং-কে। মুলায়ম অবশ্য মানেননি এই সিদ্ধান্ত। পাল্টা চালে তিনি বহিষ্কার করেছেন রামগোপালকে। ৫ জানুয়ারি লখনউয়ে ডেকেছেন দলের পাল্টা জাতীয় সম্মেলন।

এদিন  সভা শুরুর কিছুক্ষণ আগে মুলায়ম এই সম্মেলনকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করেন। যারা এই সভায় যোগ দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘কড়া ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু তাতে লাভ কিছু হয়নি। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও মুলায়মের বড়ো ছেলে অখিলেশ যে এখন দলের মধ্যেকার রাজনীতিতে অনেক বেশি শক্তিশালী, তা শনিবারের পর আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল রবিবার।

আরও পড়ুন: বিপদ বুঝে রাত পেরোতেই অখিলেশকে দলে ফেরালেন মুলায়ম

শুক্রবার অখিলেশ ও রামগোপালকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরদিন সকালেই তাদের দলে ফিরিয়ে নেন পার্টি সুপ্রিমো মুলায়ম। শনিবার সকালে বাবা-ছেলে দুজনেই আলাদা আলাদা দলীয় বৈঠক ডেকে ছিলেন। তাতেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল, দলের ২২৪ জন বিধায়কের মধ্যে ২০০-রও বেশি বিধায়ক রয়েছেন অখিলেশের সঙ্গে। তারপরই মত পাল্টান মুলায়ম। কিন্তু মুলায়মের মত পাল্টানোর ঘটনা যে অখিলেশ এবং তাঁর গোষ্ঠীর কাছে মোটেও বিশ্বাসযোগ্য হয়নি, তারই প্রমাণ মিলল এদিন। যদিও মুখে অখিলেশ বাবার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলছেন না। রবিবারও সভামঞ্চ থেকে বলেছেন, মুলায়মের প্রতি শ্রদ্ধা অটুট।  সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন,”কিছু লোক নেতাজির(মুলায়ম) বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, ছেলে হিসেবে আমার দায়িত্ব তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা”। অখিলেশ বলেন, “রাজ্যের মানুষ এখনো চায় সমাজবাদী পার্টি ক্ষমতায় আসুক। শুধু কিছু কিছু মানুষ দলের বিরুদ্ধে কথা বলছে। আসন্ন নির্বাচনে সংখ্যা বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে আমাদের দল যখন ক্ষমতায় আসবে, সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন নেতাজি নিজেই”। ষড়যন্ত্রকারী বলতে তিনি যে শিবপাল-অমর সিং-কে বোঝাচ্ছেন, তা বুঝতে বাকি থাকেনি কারও।

গত দুমাস ধরেই সমাজবাদী পার্টির মধ্যে দুই গোষ্ঠীর লড়াই চলছে। একদিকে পার্টি সুপ্রিমো মুলায়ম ও তার তুতো-ভাই শিবপাল যাদব, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ ও মুলায়মের আরেক তুতো-ভাই রামগোপাল যাদব। শিবপালকে দলের রাজ্য সভাপতি করেন মুলায়ম, জানান মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা না করেই আসন্ন নির্বাচনে লড়বে সমাজবাদী পার্টি। নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকা তৈরির দায়িত্ব তুলে দেন শিবপালের হাতে। সেই নিয়ে দ্বন্দ্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে। তা তীব্র আকার নেয় এই সপ্তাহের শুরুতে। শিবপালের তৈরি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর তা মানতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ। তারপর নিজেই প্রকাশ করেন বিকল্প প্রার্থী তালিকা।

mulayam

 

দলের মধ্যে তাঁর পাল্লা যে ভারী, তা গত কয়েকদিন ধরেই বোঝা যাচ্ছিল। রবিবার সেই সত্যকেই প্রকাশ্য সভায় সিলমোহর দিয়ে নিলেন অখিলেশ। অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বন্ধু জুটে গিয়েছে তাঁর। রাহুল গান্ধী, মমতা  জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা পাশে থাকবেন অখিলেশের।

এর মধ্যেই রামগোপালকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছেন মুলায়ম। শুক্রবারই তিনি বলেছিলেন রামগোপাল অখিলেশের ‘ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন’। শনিবার অখিলেশের চাপে ফেরত নিতে হয় রামগোপালকে। নেতাজির এই চালেএকদিকে যেমন  ছেলেকে বহিষ্কার সংক্রান্ত আবেগও কর্মী সমর্থকদের মধ্যে কাজ করবে না। অন্যদিকে পেছন থেকে কাকার পরামর্শ নিতে পারলেও,  দলীয় রাজনীতিতে প্রতিমুহূর্তের ওঠাপড়ায় নিজের চাণক্যর পরামর্শ নিতে কিছুটা অসুবিধায় পড়বেন অখিলেশ।

তিনি এই সিদ্ধান্ত মেনে দলে থেকে যাবেন, এমনটা মনে করেন না ওয়াকিবহাল মহল। তাহলে কী করবেন অখিলেশ? সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here