Steve Jarding,Rahul Gandhi and Akhilesh Yadav

ওয়েবডেস্ক: এক সময়ে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের রাজনৈতিক কৌশল ও প্রচার পরিকল্পনার দায়িত্ব সামলেছেন আমেরিকার হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুলের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক স্টিভ জারডিং। গত ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক কৌশল নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন স্টিভ। তবে মজার কথা, নিজের ওয়েবসাইটে অখিলেশ বা সমাজবাদী পার্টির ফলাফল নিয়ে কোনো তথ্যই রাখেননি তিনি। কেন? উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকারের দিকে তাকালে, তা সম্ভবত বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। তেমনই এক ‘গুরু’র কাছে রাজনৈতিক পাঠ নিচ্ছেন কংগ্রেস সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী।

হার্ভাডে স্টিভের বিখ্যাত ‘মেকিং অব এ পলিটিশিয়ান’ কোর্স যথেষ্ঠ জনপ্রিয়। শুধু অখিলেশ নন, আমেরিকা, বাংলাদেশ, রোমানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিলের মতো বেশ কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক সাফল্যের নেপথ্য কারিগর হিসাবে কাজ করেছেন স্টিভ। কিন্তু এ দেশে তাঁর টিম ততটা সাফল্য লাভ করেনি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন অখিলেশ এমন কিছু কাজ করেননি, যার দৌলতে তিনি হাসতে হাসতে ফিরতে পারতেন শাসন ক্ষমতায়। তবে  স্টিভ এবং তাঁর দলবল প্রথমেই জোর দিয়েছিলেন গ্রামীণ ভোটারদের উপর। কী ভাবে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে প্রভাবিত করে ভোট বৈতরণী পার হতে হয়, সে সব বিষয়ে বিশদ গবেষণা করেছিলেন স্টিভ। কিন্তু সরকার-বিরোধী মানসিকতা এবং বিজেপির তৃণমূল স্তরের সাংগঠনিক ক্ষমতার কাছে হারতে হয় তাঁকে এবং অখিলেশকেও।


সংসদে মোদীকে আলিঙ্গন হোক বা রাফায়েলের মতো উচ্চপর্যায়ের বিষয়কে সাধারণ মানুষের মনে চারিয়ে দেওয়ার সুকৌশল কিন্তু রাহুলের জনপ্রিয়তাকে অন্য মার্গে পৌঁছে দিচ্ছে। হতে পারে এসবই স্টিভের কেরামতি।

সম্প্রতি জানা গিয়েছে, আগামী লোকসভা নির্বাচনের ঘুঁটি সাজাতে রাহুলও শরণাপন্ন হয়েছেন স্টিভের। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির তারকা প্রচারকের তালিকায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই তুলনায় অখিলেশের দিকে তেমন কোনো ওজনদার ছিল না। আবার মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে লড়তে গিয়েও বেশ কিছুটা শক্তিক্ষয় হয়েছিল অখিলেশের। রাহুলের ক্ষেত্রে সেই ফাঁকফোঁকর বুজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন স্টিভ।

তারকা বলা হোক বা ওজনদার, প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব জনপ্রিয়তার। সেই জনপ্রিয়তা যে শুধু শাসক হিসাবে বা ভালো কাজের প্রচারের মাধ্যমে আসতে পারে, সে কথা বিশ্বাস করেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। রাহুলের জনপ্রিয় দিনে দিনে বাড়ছে। সেখানে তাঁর ঝুলিতে নেই কোনো সরকারি প্রকল্পের চমক। সংসদে মোদীকে আলিঙ্গন হোক বা রাফায়েলের মতো উচ্চপর্যায়ের বিষয়কে সাধারণ মানুষের মনে চারিয়ে দেওয়ার সুকৌশল কিন্তু রাহুলের জনপ্রিয়তাকে অন্য মার্গে পৌঁছে দিচ্ছে। হতে পারে এসবই স্টিভের কেরামতি।

কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যায়, নিজের ওয়েবসাইটে দেশ-বিদেশের একাধিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরলেও স্টিভ বাদ দিয়েছেন অখিলেশ-সমাজবাদী পার্টি চ্যাপ্টার। ২০১৯-এর পর রাহুল বা জাতীয় কংগ্রেস অধ্যায় ঠাঁই পাবে তো সেখানে? এটাই সব থেকে বড়ো প্রশ্ন!

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন