দেহরাদুন : বদরিনাথের কাছে জাতীয় সড়কে শুক্রবার দুপুরের ধসে কেউ হতাহত হননি বা  কোনো ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি। কেউ কোথাও আটকেও পড়েননি। শনিবার এ কথা জানালেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিংহ রাওয়াত। শনিবারই বন্ধ থাকা রাস্তা খুলে দেওয়া হবে বলে তিনি যাত্রীদের আশ্বাস দেন। এই বিষয়ে তিনি একাধিক টুইট করেন। জানান, ঘটনাস্থলে কেউই আটকে নেই। ঘটনার পরে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৮০০ তীর্থযাত্রী অপেক্ষমান। তাঁদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিপদ আটকাতে সতর্কবার্তা যাত্রাপথের অন্য এলাকাগুলিতেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশিস জোশি বলেন, ধস সরাতে তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন ও অন্যান্য সংস্থাও।

 

চামোলির সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ তৃপ্তি ভট বলেন, শুক্রবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সড়ক আর অলকানন্দা নদীর মাঝে ধসপ্রবণ এলাকা বিষ্ণুপ্রয়াগের হাতি পর্বতের কাছে প্রথম ধস হতে দেখেন এক জন কনস্টেবল। তিনিই চামোলির হেড কোয়ার্টারে খবর দেন। তখনই যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার ঠিক ২ ঘণ্টা বাদে পাহাড়ের চূড়ার একটা বিরাট অংশ ভেঙে পড়ে।

 

তৃপ্তি ভট জানান, প্রায় ৮০ হাজার মানুষের থাকার জায়গা রয়েছে বদরিনাথের মন্দিরচত্বর ঘিরে। সেখানে ১১ হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই এসে গেছেন। তাঁদের মধ্যে ১২০০ মানুষকে গোবিন্দঘাটে নিরাপদ এলাকায় সরানো হয়েছে। ৪৫০ তীর্থযাত্রী ফিরে গেছেন।

প্রসঙ্গত, এই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকা আর নেপাল থেকে বহু তীর্থযাত্রী কেদারনাথ, বদরিনাথ, গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী — এই চারধাম যাত্রায় আসেন। ২০১৩ সালে এই ভূমিধ্বস, বৃষ্টি আর আকস্মিক বন্যা কেদারনাথে ধ্বংসলীলা চালায়। ওই দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাঁদের মধ্যে বহু মানুষের দেহ এখনও নিখোঁজ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here