নয়াদিল্লি: তিন তালাক মামলার ৬ দিনের শুনানি শেষ হল বৃহস্পতিবার। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার রায় এদিন দেয়নি। সম্ভবত আগামী মাসে মামলার রায় জানাবে শীর্ষ আদালতের ৫ সদস্যের বেঞ্চে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর।

বিয়ের সময় মুসলিম সমাজে যে নিকাহনামা বা চুক্তিপত্র তৈরি হয়, সেখানে কনে তিন তালাক মানতে রাজি কি না, সে বিষয়ে কোনো ধারা যুক্ত করা সম্ভব কি? বা এ বিষয়ে সমস্ত কাজিকে মুসলিম ল বোর্ড নির্দেশ দিতে পারবে কি? বুধবার ল বোর্ডকে এই প্রশ্ন করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বোর্ড শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে, এ ব্যাপারে তাঁরা সমস্ত কাজিকে নির্দেশিকা পাঠাবে। তবে ল বোর্ডের হয়ে এই উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আইনজীবী কপিল সিব্বল শীর্ষ আদলতকে জানান, ‘কোনো ধর্মীয় প্রথার বৈধতা যাচাইয়ের পথে সুপ্রিম কোর্টের হাঁটা উচিৎ নয়’।

এর আগে এদিন সিব্বল তাঁর বুধবারের অসমাপ্ত বক্তব্য শেষ করেন। গতকাল আদালত বলেছিল, মুসলিম ধর্ম যদি তিন তালাককে ‘পাপাচার’ বলে মনেই করে, তাহলে কেন সেটি চলছে। তার উত্তরে সিব্বল বলেন, “ধর্মীয় প্রথার বৈধতা যাচাই করাটা একটি পিচ্ছিল পথ”। “সুপ্রিম কোর্টের সেই পথে হাঁটা উচিৎ নয়”।

আরও পড়ুন: তিন তালাক ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ নয়, সুপ্রিম কোর্টে বলল কেন্দ্র

তিন তালাক প্রথা, মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মাচরণের মৌলিক অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ কি না, তা স্থির করতেই চলছে এই মামলা। এই মামলার জন্য যে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠিত হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ধর্মীয় বিশ্বাসের।

তিন তালাকের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কিছু মামলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। মামলাটিক নাম ‘কোয়েস্ট ফর ইকুয়ালিটি বনাম জমিয়ত উলেমা ই হিন্দ’। ৬টি পৃথক মামলাকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন