ছ’বছর পর ফের কাশ্মীরের পথে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল। দু’দিনের সফরে রবিবার কাশ্মীর পৌঁছবে ৩০ সদস্যের এই প্রতিনিধিদল। উপত্যকায় শান্তি ফেরানোই লক্ষ্য। কিন্তু আদৌ শান্তি ফিরবে কি না, সেই বিষয় সন্দিহান বিশেষজ্ঞ মহল। উল্লেখ্য, উপত্যকা থেকে কারফিউ উঠে গেলেও সংঘর্ষ এখনও চলছে। এই নিয়ে ৫৭ দিনে পড়ল কাশ্মীরের উত্তপ্ত পরিস্থিতি।

বিরোধী এক বর্ষীয়ান নেতার মতে কাশ্মীরে শান্তি ফেরাতে গেলে, শুধু আপেল চাষিদের সাথে কথা বললে হবে না। সব পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে হবে। সফরের প্রাক্কালে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বে বৈঠকে বলেন ওই নেতা। প্রতিনিধিদলের চারজন হুরিয়তের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলার পক্ষপাতী। তাঁরা হলেন সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, এআইএমআইএমের আসাদ্দুদিন ওয়েইসি আর লোক জনশক্তি পার্টির নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসওয়ান।  

ইয়েচুরি এ দিন সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারের উচিত হুরিয়তকেও বৈঠকে ডাকা”। ২০১০-এ কাশ্মীরে গিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে দেখা করেছিলেন রামবিলাস পাসওয়ান। সেই ঘটনা স্মরণ করে পাসওয়ান এ দিন বলেন, “সেই সাক্ষাতে একটা ভালোবাসার স্পর্শ ছিল”।

বৈঠকে এ দিন রাজনাথ সিংহ বলেন, হুরিয়ত আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে তারা বৈঠকে ইচ্ছুক নয়, তাই তাঁদের আমন্ত্রণ জানান নিষ্প্রয়োজন। এর উত্তরে এই চারজন নেতা বলেন, কেন্দ্রের ওপর দায়িত্ব বর্তায় সরকারি ভাবে আমন্ত্রণ জানানো, তাতে যদি তাঁরা প্রতাখ্যান করেন তখন সেটা অন্য ব্যাপার। তাঁদের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো আস্থা অর্জনের একটি পদক্ষেপ হিসেবেই গণ্য হবে।

তবে রাজনাথের মতে কার সাথে দেখা করা হবে সেটা ঠিক করবেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। কয়েকজন বিরোধী নেতা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে ছররা গুলিতে আহতদের সাথে দেখা করতে চান, কিন্তু রাজনাথের মত হল হাসপাতালে সফর করলে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে। এর উত্তরে সেই নেতারা বলেন, সকল মানুষের বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার আছে।

কাশ্মীরের যুবকদের জন্য ২০০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। এই প্যাকেজে রাজ্যের সব জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। জম্মু আর শ্রীনগরের দুটি স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের করা হবে। জলক্রীড়ার জন্যও ছ’কোটির প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ইয়েচুরির মতে, “৭০ বছর ধরে প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু বিশ্বাসের অভাব এখনও রয়ে গেছে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আমাদের আগে কাশ্মীরবাসীর বিশ্বাস অর্জন করতে হবে”।

৩০ সদস্যের দলটি সোমবার জম্মুর নাগরিক মঞ্চের সাথেও দেখা করবে। সর্বদলীয় এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি, জিতেন্দ্র সিংহ, রামবিলাস পাসওয়ান, কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ আর মল্লিকার্জুন খাড়গে, জেডিইউ নেতা শরদ যাদব, এনসিপি নেতা তারিক আনোয়ার, তৃণমূলের সৌগত রায়, শিবসেনার সঞ্জয় রউত, অকালি দলের প্রেম সিংহ চান্দুমাজরা এবং বিজেডির দিলিপ তির্কে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার জানান, কাশ্মীরের বাইরে যারা কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রী রয়েছেন তাঁদের সুবিধার্থে একটি হেল্প লাইন নম্বর চালু করা হবে। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here