congress alliance

ওয়েবডেস্ক: জোটে না গেলে বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেওয়া, আর জোটে গেলে বিভিন্ন রাজ্যে কমে যেতে পারে নিজেদের প্রভাব। এটাই এখন প্রধান মাথাব্যথা হয়েছে কংগ্রেসের।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয় দল হওয়া সত্ত্বেও জেডিএসকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে কংগ্রেস। ২২২ আসনের বিধানসভায় মাত্র ৩৮ জন বিধায়ক সমৃদ্ধ দলই পেয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, মন্ত্রিত্ব নিয়ে দরকষাকষিতে জেডিএসের কার্যত সব দাবি মেনে নিয়েছে কংগ্রেস। অর্থ, আবগারি, বিদ্যুৎ এবং পূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর এখন জেডিএসের হাতে। তুলনামূলক কম গুরুত্বের দফতর নিজেদের হাতে রেখেছে কংগ্রেস। অথচ বিধানসভা নির্বাচনে ৭৮টি আসন জিতে দ্বিতীয় বড়ো দল ছিল কংগ্রেসই। এই জোটে বৃহত্তম দলও বটে। কিছু দিন আগে আরআর নগর উপনির্বাচনে জিতে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা এখন ৭৯।

কংগ্রেসের এই ‘বলিদান’কে ভালো চোখেই অবশ্য দেখছে কর্নাটক কংগ্রেসের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা। দলীয় নেতা সাকির শানাডি বলেন, “আমরা খুব সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ধর্মনিরপেক্ষ এবং স্থিতিশীল সরকারের স্বার্থে আমরা একটা বলিদান করেছি। এ বার আমাদের লক্ষ্য এই জোটের মধ্যে দিয়ে ২০১৯-এ বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা।”

অন্য এক কংগ্রেস নেতা মনিক্কম ঠাকুরের মতে, “অনেকের ধারণা ছিল জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কংগ্রেস বড়ো ভাই সুলভ আচরণ করে। কিন্তু এর মধ্যে দিয়ে আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি কংগ্রেস বিজেপির মতো নয়। আমরা জোটসঙ্গীদের আমাদের সমতুল্য মনে করি। অনেক সময়ে জোটসঙ্গীদেরই বাড়তি ক্ষমতা দিই।”

ইতিহাস বলে ঠাকুরের কথাগুলি একদম ঠিক কিন্তু এর ফলে কংগ্রেসকে নিজেদের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রেই জলাঞ্জলি দিতে হয়।

বিহারে ১৯৯০ পর্যন্ত কংগ্রেসি রাজনীতিরই চল ছিল। কিন্তু তার পর থেকেই লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডির কাছে ক্রমশ নিজেদের জমি হারাতে শুরু করে কংগ্রেস। উপায়ন্তর না দেখে ১৯৯৮তে প্রথম বার আরজেডির সঙ্গে জোটে যায় কংগ্রেস। ১৯৯৮, ১৯৯৯ এবং ২০০৪-এর লোকসভা এবং ২০০৫-এর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সেই জোট কার্যকর থাকে। ১৯৯৮-এর নির্বাচনে রাজ্যে পাঁচটা আসন পায় কংগ্রেস। ১৯৯৯ এবং ২০০৪-এ তাদের আসন কমে হয় যথাক্রমে চার এবং তিন।

২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ‘একলা চলো’-এর ডাক দিয়ে আরও বিপদে পড়ে কংগ্রেস। ৪০টা লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র দু’টো জিতছিল কংগ্রেস। পরের বছরের বিধানসভাতেও একা লড়ে মাত্র চারটে আসন জোটে তাদের কপালে।

মহারাষ্ট্রে ১৯৯৯-এ প্রথম বার এনসিপির সঙ্গে জোটে যায় কংগ্রেস। কিন্তু দু’জনের সম্পর্ক অনেক সময়েই সাপে নেউলে ঠেকেছে। ১৯৯৯ এবং ২০০৪-এ বেশি আসন জিতলেও, শুধুমাত্র বেশি মন্ত্রিত্ব পাওয়ার লক্ষ্যে কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রীকে মেনে নেয় এনসিপি। কিন্তু কংগ্রেসকে কখনোই স্বস্তি দিতে পারেনি এনসিপির রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এনসিপির এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাতেই ব্যতিব্যস্ত হয়ে ২০১৪ সালে জোট ভেঙে দেয় কংগ্রেস। কিন্তু তাতে কোনো লাভই কংগ্রেসের হয়নি। ২০১৪-এর বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়ে ৪২টা আসন জেতে কংগ্রেস।

ঝাড়খণ্ডেও ছবিটা এ রকমই। সেখানে তাদের জোটসঙ্গী শিবু সোরেনের জেএমএম হলেও, এই আঞ্চলিক দলটির দাবিদাওয়া মানতে গিয়ে আরও গর্তে পড়েছে কংগ্রেস। জোটে থাকলেও, সাম্প্রতিক দু’টি উপনির্বাচন জানান দিয়েছে ঝাড়খণ্ডেও বড়ো সঙ্গী হিসেবে জেএমএমকেই মেনে নিতে বাধ্য হবে কংগ্রেস।

জোটে থেকেও যেমন সমস্যা, আবার একা লড়লেও কংগ্রেসের সমস্যা আরও বেশি। ১৯৮৯-এ উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে কংগ্রেসের স্থান এখন চতুর্থ। বিজেপি, সপা, বসপা সবাই এখন কংগ্রেসের ওপরে।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে জোটসঙ্গীদের তুষ্ট করার জন্য একটা বিশেষ ফর্মুলা মেনে চলে কংগ্রেস। কী সেই ফর্মুলা?

দিল্লির এক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলবীর অরোরা বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনে জোটসঙ্গীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের সময়ে বড়ো সঙ্গীর দায়িত্ব পালন করাই এখন কংগ্রেসের মূল কৌশল।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here