নয়াদিল্লি: তিন মাসে বাদে নিজের পদে ফিরেছিলেন সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মা। কিন্তু যোগ দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা বাদেই তাঁকে ওই পদ থেকে অপসারণ করা হল বৃহস্পতিবার। সূত্রের খবর, তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে তাঁর অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যদিও ওই কমিটির অন্যতম সদস্য কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খারগে বৈঠকে বর্মার অপসারণে তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। এরই মধ্যে যে প্রশ্নটি মাথা চাড়া দিচ্ছে, তা হল-সিবিআই অধিকর্তা বর্মা কি জানতেন, তাঁর অপসারণ অবধারিত? গত তিন দিনের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত।

এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন উচ্চ কমিটি বৈঠকে বসে। সেই বৈঠক চলে দু’ঘণ্টার উপর। সেখানে মোদী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খারগে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ মনোনীত বিচারপতি এ কে সিকরি। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, দুর্নীতি এবং কর্তব্যে গাফিলতির জন্য বর্মাকে অপসারণ করা হবে।

সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবারই জানিয়েছিল বর্মাকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। এই মর্মে কেন্দ্রের নির্দেশিকা খারিজও করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। সেই রায় জানার পর বুধবার সিবিআই দফতরে যান বর্মা। গত বুধবার তিনি ১০ অফিসারকে সরিয়ে দেন। এ দিনও নিজের পদ থেকে অপসারণ হওয়ার ঘণ্টা পাঁচেক আগে তিনি পাঁচ অফিসারকে বদলি করেন।

[ আরও পড়ুন: বাহিনীর অন্দরে সমকামিতাকে স্বীকৃতি দেবে না ভারতীয় সেনাবাহিনী ]

জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে বর্মার বিরুদ্ধে আট দফা অভিযোগ খতিয়ে দেখেই তাঁকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি। জনমানসে সেই সমস্ত অভিযোগ সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা থাকলেও বর্মার সম্ভবত তা অজানা নয়। তা সত্ত্বেও তিনি পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার দু’দিনে যে ভাবে ১৫ অফিসারকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটা নিয়েই চলছে জোর জল্পনা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here