কাশ্মীরিদের মন জয়ের চেষ্টা শুরু করল এনডিএ সরকার। বৃহস্পতিবার শ্রীনগরে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ আশ্বাস দিলেন যে ছররা গুলির বিকল্প নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখলেন তিনি। কাশ্মীরের সমস্যা মেটানোর জন্য আলোচনার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনাথ বলেন, “মনুষ্যত্ব, গণতন্ত্র আর কাশ্মীরিত্ব-তে বিশ্বাসী মানুষের সাথেই কেন্দ্র আলোচনায় প্রস্তুত”।

এ দিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে পাশে বসিয়ে কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে সহযোগিতার আর্জি জানালেন তিনি। কাশ্মীরে অশান্তি দমনে নিরাপত্তারক্ষীরা ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করছেন ছররা গুলি। এর ফলে জখম হয়েছেন প্রচুর মানুষ, অনেককেই দৃষ্টিশক্তি হারাতে হয়েছে। ছররা গুলির বিকল্প প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মনে করি ছররা গুলির বিকল্পের প্রয়োজন। এর জন্য একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তারা তাদের রিপোর্ট দেবে। আমরা নিরাপত্তারক্ষীদের আরও সংযত হতে বলেছি”।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে রাজনাথ বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার সবার সাথে আলোচনায় প্রস্তুত। তাঁর কথায় রাজ্যের মূল রাজনৈতিক দলের বাইরেও প্রায় ৩০০ জনের সাথে তিনি কথা বলেছেন। রাজ্যের বাইরে বসবাসকারী কাশ্মীরিদের জন্য একটি নোডাল এজেন্সি তৈরি করার কথাও বলেন রাজনাথ। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “কাশ্মীরিদের কোনও সমস্যা হলে তাঁরা এই এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সমগ্র দেশবাসীর কাছে আমার আর্জি, তাঁরা যেন কাশ্মীরিদের নিজের ভাইয়ের মতো দেখেন। দরকারে তাঁরা যেন কাশ্মীরি ছাত্রদের পাশে থাকেন”।

অমরনাথ জমি বিতর্কের প্রেক্ষিতে ২০০৮-এ কাশ্মীরে যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল তার সমাধানে সর্বদল প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা মনে করিয়ে এ দিন রাজনাথ বলেন, এ বারও সম্ভব হলে তেমনি একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রের তরফে পাঠানো হবে। 

এই সম্মেলনে মেহবুবা বলেন, “রাজ্যের ৯৫ শতাংশ বাসিন্দাই শান্তিপ্রিয়। ৫ শতাংশ মানুষ হিংসার পথ বেছে নিচ্ছেন। শিশুদের শিল্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।   

তবে যৌথ এই সাংবাদিক সম্মেলনে তাল কাটে যখন সাংবাদিকদের কঠিন প্রশ্নে মেজাজ হারিয়ে রাজনাথকে রেখেই সম্মেলন ছেড়ে বেরিয়ে যান মেহবুবা।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here