amazon
অ্যামাজন। প্রতীকী ছবি

চালু হওয়ার পর এখনও দু’বছর অতিক্রান্ত হয়নি। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার অ্যামাজনের (Amazon) তরফে জানিয়ে দেওয়া হল হাই স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য চালু করা সংস্থার অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করে দেওয়া হবে আগামী ২০২৩ সালের আগস্টে। কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত অ্যামাজনের?

ফি ফেরত দেবে অ্যামাজন অ্যাকাডেমি

করোনা মহামারির আবহে অনলাইনে লার্নিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন অ্যাকাডেমি (Amazon Academy) চালু হয়। মূলত জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষার (JEE) প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন পড়ুয়াদের জন্যই প্ল্যাটফর্মটি চালু করেছিল সংস্থা। আগ্রহীরা নাম নথিভুক্ত করেছিলেন ফি দিয়ে। এ দিন ই-কমার্স সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান অ্যাকাডেমিক সেশনে নথিভুক্তদের সম্পূর্ণ ফি ফেরত দেওয়া হবে।

করোনভাইরাস মহামারি চলাকালীন ভার্চুয়াল শিক্ষার ঝড় বয়ে যায় এ দেশে। সেই আবহেই প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হয়েছিল। শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অ্যামাজন একাডেমি জয়েন্ট এন্ট্রাস-সহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোচিং অফার করে।

কী কারণে বন্ধের সিদ্ধান্ত

একটি মূল্যায়নের ভিত্তিতে, বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন খুচরো বিক্রেতার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বর্তমান গ্রাহকদের কথা ভেবেই পর্যায়ক্রমে” অ্যামাজন অ্যাকাডেমি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এক লপ্তে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করে দেওয়া হলে বর্তমান পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়তে পারেন ধরে নিয়েই ধাপে ধাপে বন্ধ করার ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে সংস্থা। ফলে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে না ঠিকই, কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে সম্পূর্ণ কোর্স সামগ্রী অ্যাক্সেস করতে পারবেন বর্তমানে নাম নথিভুক্তকারীরা।

প্ল্যাটফর্মটি চালু করার সময় সংস্থা জানিয়েছিল, “অনলাইন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় শিক্ষা এবং অনুশীলনের রুটিন, কিউরেটেড লার্নিং ম্যাটেরিয়াল, লাইভ লেকচার এবং গণিত, পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নে ঢালাও মূল্যায়নের উপকরণ সাজানো থাকবে এই প্ল্যাটফর্মে”। বলে রাখা ভালো, জয়েন্ট এবং নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ কোর্স চালু করার জন্য এডুকেশন গ্রুপ শ্রী চৈতন্যর সঙ্গে চুক্তি করেছিল সংস্থা।

তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। করোনা মহামারির সময় লকডাউনের জেরে ভারত জুড়ে স্কুল এবং কোচিং সেন্টারগুলি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তবে এখন আবার তারা পুনরুজ্জীবনের আশা করছে। চাপ রয়েছে ঠিকই, কিন্তু এডটেক সংস্থাগুলির সঙ্গে এখন লড়াইয়ে নেমেছে তারা। এডটেকের অন্যতম সংস্থা বাইজু’স (Byju’s) গত অক্টোবরে আড়াই হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা ঘোষণা করে। এমনকী, আনঅ্যাকাডেমি (Unacademy), টপার (Toppr), হোয়াইটহ্যাট জুনিয়র (WhiteHat Jr), এবং বেদান্তু (Vedantu)-সহ অন্য সংস্থাগুলিও চলতি বছরের শুরুর দিকে বড়ো অংশের কর্মীকে বরখাস্ত করার ঘোষণা করেছিল।

অ্যামাজন ছাঁটতে পারে ১০ হাজার কর্মী

চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, কর্পোরেট এবং প্রযুক্তি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে অ্যামাজন। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষ চাকরি করেন সংস্থায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি সত্যিই ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়, সংস্থার ইতিহাসে এটাই হবে সবচেয়ে বড়ো কর্মী ছাঁটাই।

পাশাপাশি, সংস্থার মুখপাত্র কেলি নান্টেল বলেছেন, বার্ষিক অপারেটিং পরিকল্পনা পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে, নির্দিষ্ট ভূমিকার আর প্রয়োজন নেই। তা থেকেই অনুমান, এই গণছাঁটাই প্রক্রিয়ায় শুরুতেই কোপ পড়তে পারে ‘অ্যালেক্সা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট’-এর মতো ডিভাইস- ভিত্তিক বিভাগগুলিতে।

আরও পড়ুন: ছাঁটাইয়ের মরশুমে আরেক ধাক্কা! এ বার ১০ হাজার কর্মীকে বিদায় জানাতে পারে গুগল

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন