প্রশিক্ষণহীনদের এভারেস্ট অভিযান নিষিদ্ধ হোক, চান মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা পর্বতারোহী

এভারেস্টের ইতিহাসে, এ বার অন্যতম ভয়াবহ মরশুম ছিল। মোট ৩৮১ জনকে এভারেস্টে শীর্ষে ওঠার অনুমতি দিয়েছিল নেপাল

0
এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার জন্য তৈরি হয়েছে লম্বা লাইন। ছবি সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ।

ওয়েবডেস্ক: প্রাথমিক দক্ষতা না থাকলে এভারেস্টে যাওয়া উচিত নয় পর্বতারোহীদের। এমনই আবেদন করলেন ‘ট্র্যাফিক জ্যাম’-এর ফাঁদে পড়ে কোনো রকমে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা পর্বতারোহী আমিশা চৌহান।

এভারেস্টের ইতিহাসে, এ বার অন্যতম ভয়াবহ মরশুম ছিল। মোট ৩৮১ জনকে এভারেস্টে শীর্ষে ওঠার অনুমতি দিয়েছিল নেপাল। কিন্তু উইন্ডো ছিল মাত্র তিন চার দিনের। উইন্ডো অর্থাৎ, অনেক দিন খারাপ আবহাওয়া থাকার পর কয়েক দিনের জন্য আবহাওয়ার ভালো হওয়া, যাকে কাজে লাগিয়ে চূড়ায় পৌঁছোতে পারেন পর্বতারোহীরা।

এ বার ২১ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত এই উইন্ডো ছিল। এই চার দিনে এত পর্বতারোহীর এভারেস্ট অভিযানের ফলে বিশাল লম্বা লাইন তৈরি হয়ে যায়। একেই ‘ট্র্যাফিক জ্যাম’ বলা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্র্যাফিক জ্যামের সেই ছবি দেখে হকচকিয়ে উঠতে হয়। এই ট্র্যাফিক জ্যামের জন্যই এভারেস্ট অভিযান বাতিল করে চন্দননগরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বাংলার পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক।

amazon

সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য রক্ষা পেয়েছেন পিয়ালি। কিন্তু ভাগ্য এতটা ভালো ছিল না ওড়িশার কল্পনা দাশের। এই ‘ট্র্যাফিক জ্যাম’-এর ফাঁদে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। একই ভাবে মৃত্যু হয়েছে নিহাল ভগবান এবং অঞ্জলি কুলকার্নি নামক আরও দুই ভারতীয় পর্বতারোহীরও। তবে শুধু তাঁরাই নন, এ বার এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে এই কারণেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত দশ পর্বতারোহীর।

আরও পড়ুন ঝাড়খণ্ডে সিআরপিএফের কনভয়ে মাওবাদী হামলা, জখম ১১

পর্বতারোহী আমিশার ভাগ্যেও হয়তো এমন কিছুই লেখা ছিল। কুড়ি মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার পর খেয়াল করেন তাঁর ফ্রস্ট বাইট শুরু হয়েছে। দ্রুত নেমে আসার সিদ্ধান্ত নেন ২৯ বছরের আমিশা। এখন তিনি কাঠামান্ডুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাণসংশয় আর নেই তাঁর। কিন্তু এই অব্যবস্থার জন্য নেপাল সরকার এবং একাংশ পর্বতারোহীদের দিকে তোপ দেগেছেন তিনি।

হাসপাতালে আমিশা।

এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অনেক পর্বতারোহীকে দেখেছি, যাঁদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণটুকু নেই। শুধুমাত্র শেরপা গাইডদের ভরসায় চলে এসেছেন এভারেস্টে। নেপাল সরকারের উচিত এ ব্যাপারে কিন্তু নিয়মকানুন চালু করা। সঠিক ভাবে প্রশিক্ষিত পর্বতারোহীদের এই অভিযানের অনুমতি দেওয়া উচিত।”

আমিশা বলেন, “এই ট্র্যাফিক জ্যামের ফলে অনেক পর্বতারোহীর অক্সিজেন ফুরিয়ে যেতে শুরু করে। অনেকে তো আবার অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলেও অভিযানে অনড় ছিলেন। ফলে নিজেদের জীবন তাঁরা নিজেরাই বিপন্ন করেছেন।”

নেপাল সরকারের কাছে আমিশার দাবি, এভারেস্ট অভিযানের জন্য আরও কঠোর নিয়ম আনুক সেই দেশের সরকার।

উল্লেখ্য, শেষ বার এভারেস্টে এই সংখ্যক মৃত্যু হয়েছিল ২০১৫ সালের নেপাল ভূমিকম্পের সময়ে। কিন্তু তার কারণ ছিল অন্য। ভূমিকম্পের প্রভাবে ধেয়ে আসা তুষারধসের কবলে পড়ে ধূলিসাৎ হয়ে যায় পর্বতারোহীদের অসংখ্য ক্যাম্প। মৃত্যু হয় অনেকের।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন