উমর খালিদের মুক্তির দাবিতে সরব অমিতাভ ঘোষ, মীরা নায়ার-সহ দুশোর বেশি বিদ্বজ্জন

0
Umar Khalid

খবর অনলাইন ডেস্ক: জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদের (Umar Khalid) মুক্তির দাবিতে তাঁর সমর্থনে বিবৃতি দিলেন দুশোরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ও শিল্পী। গত ফেব্রুয়ারির দিল্লি দাঙ্গায় (Delhi Riots) তাঁর ‘ভূমিকা’র জন্য বন্দি রয়েছেন উমর খালিদ।

বিদ্বজ্জনেরা বলেছেন, উমর খালিদের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে যা চলছে তা আসলে ‘পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে এক জন প্রতিপক্ষ খুঁজে নিয়ে তাঁকে হেনস্থা করা’। দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) উমর খালিদকে ইউএপিএ-র (অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, UAPA) ধারা মোতাবেক মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ, CAA) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি, NRC) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য খালিদ-সহ যাঁদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে, তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ওই বিদ্বজ্জনেরা। তাঁরা চান, ভারতীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সরকারি চাকুরেরা নিরপেক্ষতা বজায় রাখার যে শপথ নেন, সেই শপথের কথা মনে রেখে দিল্লি পুলিশ দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে তদন্ত করুক।

বিবৃতিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ২০৮ জন বিদ্বজ্জন সই করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ভাষাবিদ নোয়াম চোমস্কি, লেখক সলমন রুশদি, অমিতাভ ঘোষ, অরুন্ধতী রায়, রামচন্দ্র গুহ ও রাজমোহন গান্ধী, চলচ্চিত্রনির্মাতা মীরা নায়ার ও আনন্দ পটবর্ধন, ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার ও ইরফান হাবিব এবং সমাজকর্মী মেধা পাটকর এবং অরুণা রায় প্রমুখ।

তাঁরা লিখেছেন, “আমরা সংহতি প্রকাশ করতে এবং ক্ষোভ জানাতে সাহসী তরুণ স্কলার ও সমাজকর্মী উমর খালিদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাঁকে দেশদ্রোহিতা, হত্যার ষড়যন্ত্র এবং ভারতের কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ-র বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। সমস্ত মতদ্বৈধতাকে অপরাধের তকমা দেওয়ার প্রক্রিয়া গত কয়েক বছর ধরে চলছে এবং এমনকি কোভিড ১৯ অতিমারির মধ্যেও মিথ্যা অভিযোগে অবিরাম রাজনৈতিক গ্রেফতারি চালিয়ে বিচারের আগেই নিরীহদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।”

তাঁরা বলেছেন, “যে ২১ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন বলে মিথ্যা অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৯ জনই মুসলিম। আমরা যদি ধরে নিই, তাদের পরিচিতিই তাদের অপরাধ, তা হলে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রসমূহের আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীতে ভারতের মাথা হেঁট হয়ে যাবে। এই ব্যক্তিরা সন্ত্রাসবাদী নন এবং দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে পুলিশের যে তদন্ত চলছে, তা আদতে তদন্ত নয়। তা হল পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে প্রতিপক্ষ খুঁজে নিয়ে তাঁদের হেনস্থা করা।”

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেশ কিছু বিজেপি নেতা “‘বিশ্বাসঘাতকদের গুলি করে মারার জন্য’ সমর্থকদের উত্তেজিত করতে ঘৃণ্য বক্তৃতা দিয়েছেন”, কিন্তু “তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।”

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, “দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের ভূমিকা নিয়ে ন্যূনতম পুলিশি যাচাই হয়নি। অথচ ইনি ২০২০-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের পাশে দাঁড়িয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, সিএএ-র প্রতিবাদকারীদের যদি সরিয়ে দেওয়া না হয়, তা হলে তাঁর সমর্থকরা গোটা ব্যাপারটা নিজেদের হাতে তুলে নেবে। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে যে দাঙ্গা চলে এই বক্তৃতাই তাতে ইন্ধন জুগিয়েছিল বলে অভিযোগ। অথচ তার বদলে তরুণ প্রতিবাদকারীদের টার্গেট করে জেলে পুরে দেওয়া হল।”

খবর অনলাইনে আরও পড়তে পারেন

দিল্লি দাঙ্গার চার্জশিটে সলমন খুরশিদ, বৃন্দা কারাত, প্রশান্ত ভূষণের নাম

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন