“মা এটাই হয়তো তোমাকে লেখা আমার শেষ চিঠি, কিন্তু তা-ও তুমি আমাকে চিঠি লিখো। ঠিক সময় খাওয়াদাওয়া করো আর নিজের যত্ন নিও। যদি সব কিছু ঠিকঠাক চলে তা হলে আমি খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাব।”

পাকিস্তানের  জেলে আটক সুনীল উইকে মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে তাঁর মাকে একটা চিঠিতে এই সবই লিখে পাঠিয়েছেন।

সুনীল দু’মাস আগে গুজরাত থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। এই চিঠিটা পাওয়ার আগে অবধি তিনি কেমন আছেন, কোথায় আছেন, কী করছেন, এই সব ব্যাপারে তাঁর পরিবারের কাছে কোনও খবরই ছিল না। কাকা শিবলালের কাছে করাচির জেল থেকে হাতে লেখা একটা চিঠি আসে। চিঠিটি সুনীলের মাকে লেখা। তখনই সুনীলের বিষয়ে জানতে পারে পরিবার। সুনীলকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের মোট দু’জন যুবক পাকিস্তানের জেলে আটক। এর আগে জিতেন্দ্র অর্জুনওয়ারকে পাকিস্তানে আটক করা হয়। সুনীলের ইচ্ছা ছিল, কাকা যেন তাঁর মাকে কারাবাসের খবর দেন এবং মা যেন দুশ্চিন্তা না করেন। চিঠিতে তিনি কাকাকে অনুরোধ করেছেন, যত দিন তিনি না ফিরছেন তত দিন তিনি যেন তাঁর মায়ের দেখভাল করেন।

পাকিস্তান মেরিন সিকিউরিটি এজেন্সি (পিএমএসএ) আরব সাগরের জাখাউ উপকূল থেকে ২৯ মার্চ ১০টি নৌকা-সহ ৫৫ জন ভারতীয় মৎসজীবীকে আটক করে। আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করার অপরাধে আটক হন তাঁরা। তার মধ্যে একটিতে ছিলেন সুনীল। এই নৌকাগুলোর বেশির ভাগই ছিল গুজরাতের ওখা ও  ম্যাঙ্গরোয়াল বন্দরের।

২০১৫ সালে সুনীল কাজের খোঁজে গুজরাতে যান। ২০১৬-এর ১৪ মার্চ ওখা বন্দর থেকে মাছ  ধরার জন্য রুদ্ররাজ নামের একটি নৌকায় করে আরব সাগরে পাড়ি দেন। এক গোয়েন্দা কর্তা জানান, ওখা বন্দরের মাচ্ছরাজ, বায়ুরাজ, আঞ্জনীপুত্র-৭, মেঘরাজ নামের নৌকাগুলিকে আটক করেছে পিএমএসএ।  

ধরা পড়ার সময় সুনীলের কাছে শুধু তাঁর ভোটার কার্ডটাই ছিল। সুনীলের পরিবার বালাঘাট পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছে, তাঁর ভোটার কার্ড যে সঠিক এবং তিনি যে  ভারতীয় নাগরিক তা যেন তাঁরা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে বলেন। সুনীলের কাছে তাঁর কাছে আধার কার্ড নেই। ইতিমধ্যে জানা গিয়েছে, ভারত সরকারের কাছ থেকে সুনীলের ভারতীয় নাগরিকত্বের যাবতীয় প্রমাণ না পাওয়া অবধি পাক সরকার তাঁকে ছাড়বে না। তাই এই ব্যাপারে জরুরি সব ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে সুনীলের পরিবার। চিঠি থেকে বালাঘাট পুলিশ জানতে পারে সুনীলের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের আরও ২৫-৩০ জন আটকে আছেন।

তিন বছর আগে  ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট পাকিস্তান রেঞ্জার্স সেওনি জেলার জিতেন্দ্র অর্জুনওয়ারকে আটক করে। তিনিও একই জেলে আছেন। রাজস্থান সীমান্তে কাঁটাতার পেরিয়ে পাকিস্তানের ৩৫ কিলোমিটার ভেতর জলের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন জিতেন্দ্র। সিন্ধ সেনাছাউনি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে তাঁকে আটক করে রেঞ্জার্সরা। এর পর তাঁকে সিন্ধু প্রদেশের উমেরকোট জেলার খকরাপার থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‘বিদেশি আইন’-এ তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের লোকেরা তাঁর ব্যাপারে এই পর্যন্ত কোনও খবরাখবরই পাননি।

ছবি: সৌজন্যে দ্য টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়া

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here