tigress

লখনউ : এই নিয়ে একই সপ্তাহের মধ্যে দু’টি বাঘিনীকে খুন করা হল। শেষ ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের দুধওয়া গ্রামে। বাঘিনীটিকে খুন করা হয়েছে দুধওয়া বাঘ সংরক্ষণ এলাকার ভেতরেই। পর পর দু’ দু’টি ঘটনা সংরক্ষিত এলাকায় বন্যপ্রাণীদের সংরক্ষণ আর তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলছে।

লখনউ থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুধওয়া ব্যাঘ্র সংরক্ষণ এলাকা। সেখানেই ৫০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির ওপর হামলা করে এই বাঘিনী। হামলায় আহত এই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মারা যান তিনি। ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রকল্প লাগোয়া এলাকাবাসী খেপে ওঠে। তারা হামলা করে বন বিভাগের কর্মীদের ওপর। ভাঙচুর করে দফতরের আসবাবপত্র। সেখানকারই একটি ট্র্যাকটর নিয়ে অরণ্যের ভেতরে প্রবেশ করে ক্ষিপ্ত জনতা। আর ১০ বছরের এই বাঘিনীটিকে হত্যা করে তারা। তার আগে ভারী ধরনের লাঠি দিয়ে মারধরও করে। এই বাঘিনীর মৃতদেহ জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

দুধওয়া জাতীয় উদ্যানের ডিরেক্টর মহাবীর কোজিলাঙ্গি বলেন, মৃত ওই ব্যক্তি অরণ্যের ভেতর দিয়ে গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি আইনবিরুদ্ধ। পাশাপাশি ব্যাঘ্র প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর রমেশ কুমার পাণ্ডে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

জানেন কি পৃথিবীতে এখন কতগুলি প্রজাতির ক’টি বাঘ আছে?

প্রসঙ্গত এক দিকে এলাকাবাসীদের দাবি, গত দু’ সপ্তাহ ধরে বাঘিনী তাদের পালিত পশুদের মেরে ফেলেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তারা এই ঘাতক বাঘিনীটির ব্যাপারে বন দফতরে একাধিক বার অভিযোগ করেছে। অন্য দিকে বনকর্মীদের দাবি গত দশ বছরে বাঘ মানুষের ওপর কোনো হামলা করেনি।

এক জন আধিকারিক জানান, এই বাসিন্দারা সংরক্ষিত অরণ্যের ভেতর একটা অংশে বসবাস করে। অতীতে তাদের এখান থেকে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা যায়নি। তাদের বক্তব্য, তাদের জীবনযাত্রা এই অরণ্যের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য রবিবারের দুধওয়ার ঘটনাটির এক দিন আগে মহারাষ্ট্রের বন বিভাগের কর্মীরা বাঘিনী ‘অভনী’কে হত্যা করেন। সে নাকি মানুষখেকো হয়ে গিয়েছিল।

 

এই হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধী। তিনি বলেছেন, এই হত্যা ‘পুরোপুরি অবৈধ’। এটা ‘নৃশংস খুন’। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের গোচরে আনবেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনায় ধিক্কার জানিয়ে টুইট করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

এই প্রসঙ্গে একটি সমীক্ষার কথা তুলে ধরা যেতে পারে। এই সমীক্ষাটি করেছে জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের গণনার পর দেশে বাঘের সংখ্যা মাত্র ২২২৬টি। প্রতি চার বছর অন্তর এমন গণনা করা হয়। তা ছাড়া বর্তমানে বাঘ লুপ্তপ্রায় প্রজাতির পশুদের মধ্যে একটি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here