anita bose

লন্ডন: জাপানের মন্দির থেকে নেতাজির চিতাভষ্ম আনিয়ে তার ডিএনএ পরীক্ষা চান তাঁর কন্যা অনিতা বসু পাফ। এই দাবিতে সামনের বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখাও করবেন তিনি।

১৮ আগস্ট ১৯৪৫-এ বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির সত্যি মৃত্যু হয়েছিল না সেই রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তাঁর চিতাভষ্মের ডিএনএ পরীক্ষা দাবি অনেক মহল থেকে করা হয়। টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে তাঁর চিতাভষ্ম  রাখা রয়েছে।

“স্বাধীন ভারতের ৭০ বছর, কী চেয়েছিলেন নেতাজি,” শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন অনিতা। সেখানে তিনি বলেন, নেতাজির মৃত্যুসংক্রান্ত সমস্ত রহস্য উন্মোচন করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন। তবে অনিতা নিশ্চিত বিমান দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু হয়েছিল নেতাজির। তাঁর কথায়, “দু’টো তদন্ত কমিশন বলেছে নেতাজির মৃত্যু বিমান দুর্ঘটনাতেই হয়েছে। জাপান সরকারের তরফ থেকে যে তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে সেটাও এই তত্ত্বেরই সমর্থন। তাঁর মৃত্যু বিমান দুর্ঘটনাতেই হয়েছিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমার বাবাকে নিয়ে যে সমস্ত গল্প বাজারে রয়েছে তা সম্পূর্ণ আজগুবি। যে ভাবে গুমনামি বাবার গল্প ছড়িয়েছে, এর ফলে আমার নেতাজিকেই অপমান করা হয়েছে। একটা মানুষ যিনি দেশের জন্য এত কিছু করলেন তিনি কেন ছদ্মবেশ ধারণ করে উত্তরপ্রদেশে থাকবেন!”

ডিএনএ পরীক্ষার ব্যাপারে তাঁর পরিবার যে দ্বিধাবিভক্ত সে কথাও বলেন অনিতা। তাঁর কথায়, “আমাদের পরিবার খুব বড়ো পরিবার। ডিএনএ পরীক্ষার ব্যাপারে আমাদের পরিবার এখন দ্বিধাবিভক্ত।” অনিতার কথায়, ভারত হোক কি জাপান, ডিএনএ পরীক্ষার ব্যাপারে কেউই এগিয়ে আসবে না। তিনি বলেন, “আগে দেখি মোদী এই ব্যাপারে কী বলেন, হয় তিনি সম্মতি জানাবেন, নয়তো তিনি না বলবেন। রাজনীতিকদের নিজস্ব মত রয়েছে। তাঁরা যদি মনে করেন ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিলে নিজেরা লাভবান হবেন তা হলে পরীক্ষার নির্দেশ দেবেন, না হলে দেবেন না।”

মোদীর সঙ্গে তিনি কখনও দেখা না করলেও জার্মান দূতাবাসের মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছের কথা মোদীর কানে পৌঁছেছে বলে মনে করেন অনিতা। তাঁর মতে, নেতাজি যদি স্বাধীনতার পরেও জীবিত থাকতেন, তা হলে ভারতের ইতিহাসই বদলে যেত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here