নয়াদিল্লি : বাহিনী সতর্ক করে দেওয়া সত্ত্বেও অভিযোগ জানানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্ত্র করে চলেছেন জওয়ানরা। এ বার সেই পথ ধরলেন সিপাহি সিন্ধব যোগীদাস লাখুভাই। তাঁর অভিযোগ যেমন খাবারের মান নিয়ে, তেমনই সহায়ক প্রথা নিয়েও।

সেনা অফিসারদের ‘সহায়ক’ হয়ে কী ভাবে তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হয়, তা নিয়ে এক সংবাদমাধ্যমের স্টিং অপারেশনে যোগ দেওয়ার পর রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল ল্যান্সনায়েক রয় ম্যাথুর। তাঁর মৃত্যু খুন না আত্মহত্যা, এই রহস্য উদ্ঘাটন হতে না হতে ময়দানে নেমে পড়লেন সিন্ধব। ২০১৪ সালে আর্মি মেডিক্যাল কোরে ‘হাউসকিপার’ (স্যানিটেশন) হিসাবে নিযুক্ত হন সিন্ধব। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে বলেছেন, তাঁদের দিয়ে হীন কাজ করানো হচ্ছে এবং এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা অন্য কোথাও অভিযোগ জানানো হলে শাস্তির ভয় দেখানো হচ্ছে। ব্যাপারটি নিয়ে তিনি হতাশ। তাঁর আরও অভিযোগ, তাঁদের নিম্ন মানের খাবার দেওয়া হয় এবং তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করা হয়। দাসের মতো আচরণ করেন অনেক অফিসার। সিন্ধব বলেছে্ন, এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি, ২৮ অক্টোরব তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি লেখেন। তার কোনো জবাব আসেনি। কিন্তু তার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এক বছরে দু’ বার ‘কোর্ট অব এনকোয়্যারি’ করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এক বছর ধরে তাঁকে হয়রান করা হয়। 

সিন্ধব ভিডিওতে বলেছেন, কেউ কেউ জওয়ানদের দাস মনে করেন। আর জওয়ানদেরও বাধ্য হয়ে নির্দেশমতো সব কিছুই করতে হয়। কারোর মুখ খোলার উপায় নেই। মুখ খুললেই মরতে হবে। কারণ সেনা-জওয়ানদের নিয়ম খুবই কঠোর। তিনি বলেন, কোনো সেনা নিয়মভঙ্গ করলে তাঁকে কঠোর শাস্তি পেতে হয়। কিন্তু কোনো অফিসার ওই একই নিয়ম ভাঙলে তাঁর কোনো শাস্তি হয় না। 

কিন্তু, তাঁর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, এক বার ছুটি থেকে ঠিক সময়ে না ফেরার অপরাধে তাঁর সাত দিনের মজুরি কেটে নেওয়া হয়েছিল। একবার তাঁকে রানিখেতের মিলিটারি হাসপাতালে আইসিইউ-তে ভর্তি এক মরণাপন্ন রোগীর বেডপ্যান পরিষ্কার করতে বলা হয়েছিল। হাউসকিপারকে এ ধরনের কাজ করতে হয়। ওই কাজ তিনি করতে অস্বীকার করায় তাঁকে তাঁর ইউনিটেই সাত দিনের জেল দেওয়া হয়। কখনও তাঁকে কোনো অফিসারের সহায়ক বা ‘বাডি’ হতে বলা হয়নি। তাঁর সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন