গুয়াহাটি : অসমে সেনাবাহিনীর আরও এক জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে নাগরিকত্ব প্রমাণের নোটিশ পাঠানো হল। নোটিশ পাঠাল অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল। এর ঠিক মাস খানেক আগেই অন্য এক জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে এমনই এক নোটিশ পাঠিয়েছিল এই ট্রাইবুনাল।

আরও পড়ুন: তিরিশ বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর জুটল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর তকমা

এ বারে গুয়াহাটির মহিরুদ্দিন আহমেদ ও তাঁর স্ত্রীকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মহিরুদ্দিন ভারতীয় সেনার হাবিলদার পদে কাজ করতেন। ২০০৪ সালে তিনি অবসর নেন। ১৬ সেপ্টেম্বর বরপেটা জেলার ফরেনার্স ট্রাইবুনাল তাঁকে এই নোটিশ পাঠিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর তাঁরা বেআইনি ভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকেছে।

এর প্রেক্ষিতে আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তাঁকে বলা হয়েছে উপযুক্ত প্রমাণ সহ ট্রাইবুনালে যোগাযোগ করতে। তিনি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক আর ভয়ংকর ব্যাপার। এতগুলো বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর শেষমেষ এই ভাবে মানহানি হল। বলেন, তিনি ১৯৬৪ সালে বরপেটায় জন্মেছিলেন। তিনি যদি ভারতীয় নাগরিক না হন তা হলে সেনাবাহিনীতে কাজ পেলেন কী করে?

মহম্মদ অজমল হক।

এর আগে গত মাসেই মহম্মদ আজমল হককেও এমনই নোটিশ পাঠিয়েছিল এই ট্রাইবুনাল। হক ৩০ বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। ছিলেন জুনিয়ার কমিশনড অফিসার পদে। ২০১৬-র ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি অবসর নেন। নোটিশে তাঁকেও ওই একই ভাবে সন্দেহ করা হয়েছিল। সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর বেআইনি ভাবে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে ঢুকেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। তাঁকেও নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হয়েছিল।

হক বলেন, বার বার এমনভাবে অপমানিত হচ্ছেন তিনি। এক জন নাগরিকের এই ধরনের নাকনিচোকানি যাতে বন্ধ করা হয় তার জন্য প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন হক। তাঁর পরিবারে শুধু তিনিই নন, এর আগে ২০১২ সালে তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগমকেও এই একই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে অবশ্য অসম পুলিশ তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছিল।

উল্লেখ্য, ফরেনার্স ট্রাইবুনাল তৈরি হয়েছে ‘ফরেনার্স (ট্রাইবুনাল) অর্ডার ১৯৬৪’-র অধীনে। সন্দেহজনক ভারতীয়দের বিষয়ে খোঁজ তল্লাশি করার জন্য এটি তৈরি হয়। প্রথমে এই ট্রাইবুনালের সংখ্যা ছিল ৩৬। কিন্তু এই জাতীয় সমস্যার পরিমাণ বাড়তে থাকায় ২০১৫ সালে এই ফরেনার্স ট্রাইবুনালের সংখ্যা বেড়ে ১০০ হয়েছে।

১৯৮৫ সালে অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি হয়েছিল অসম অল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন আর কেন্দ্রের মধ্যে। তখনই বেআইনি ভাবে প্রবেশ করা বাংলাদেশিদের শনাক্ত করা আর তাদের দেশ থেকে বার করে দেওয়ার জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়। ঠিক হয়েছিল এই তারিখের পরে প্রবেশ করা বাংলাদেশিদের উপযুক্ত আইনি কাগজপত্র না থাকলে তাদের বেআইনি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here