gauri lankesh

বেঙ্গালুরু: প্রবীণ কন্নড় সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশকে গুলি করে খুন করা হল। ঠিক যে ভাবে দু’ বছর আগে খুন করা হয়েছিল এম এম কালবুর্গিকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিম বেঙ্গালুরুর রাজ্যেশ্বরীনগরে তাঁর বাড়ির গাড়িবারান্দায় গৌরীকে গুলি করা হয়। গৌরী যখন সবে তাঁর কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরে বাড়িতে ঢুকতে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই কিছু অজ্ঞাতপরিচয়িব্যক্তি তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। তিনটি বুলেট তাঁর শরীরে লাগে, তার মধ্যে একটি কপালে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার টি সুনীল কুমার বলেন, “মোট সাতটি বুলেট ছোড়া হয়েছিল গৌরীকে লক্ষ করে। চারটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাড়ির দেওয়ালে লাগে। বাকি তিনটির মধ্যে দু’টি বুকে লাগে এবং একটি কপালে লাগে।” ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চারটি কার্তুজ উদ্ধার করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, গৌরী লঙ্কেশের খুনের ব্যাপারে তদন্ত করতে পুলিশের তিনটি দল তৈরি করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের ধরা হবেই। “আমি এ ব্যাপারে পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের ডিজির সঙ্গে কথা বলেছি” – বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

হিন্দুত্ব-বিরোধী বামপন্থী সাংবাদিক।

৫৫ বছরের গৌরী শুধু এক জন সাংবাদিকই ছিলেন না, ছিলেন এক জন সক্রিয় কর্মীও। তাঁর বাবা পি লঙ্কেশকে নতুন ধরনের কন্নড় সাংবাদিকতার জনক বলা হয়। গৌরী তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা। বাবারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলতেন গৌরী। নিজের ভাবনাচিন্তার কথা খোলা মনে প্রকাশ করতেন। তিনি ‘গৌরী লঙ্কেশ পত্রিকে’ নামে একটি সাপ্তাহিক কন্নড় ট্যাবলয়েড পত্রিকা চালাতেন। কাগজ চালাতে গিয়ে কখনও সাবধানতা অবলম্বন করেননি বা সব দিক বজায় রেখেও চলতেন না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য কাজ করে এমন একটি গোষ্ঠীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন গৌরী। হিন্দুত্ব-বিরোধী বামপন্থী হিসাবে তিনি পরিচিত ছিলেন।

বাবা যেমন তাঁর লেখনীর জন্য মাঝে মাঝে সমালোচনায় বিদ্ধ হতেন, মেয়েকেও ঠিক তেমনই নানা বিরোধিতার মুখে পড়তে হত। ২০১৬-এর নভেম্বর মাসে বিজেপি সাংসদ প্রহ্লাদ জোশিকে নিয়ে একটি মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। তাঁর ছ’ মাসের জেল হয়। তিনি জামিনে ছাড়া পান।

গৌরী লঙ্কেশের খুনের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় তুলেছে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন টুইট করে বলেছেন, “বেঙ্গালুরুতে সাহসী সাংবাদিক-কর্মী গৌরী লঙ্কেশের হত্যার খবরে মর্মাহত। অপরাধীদের যত শীঘ্র সম্ভব ধরতে হবে।”

বায়োকন-এর চেয়ারম্যান কিরণ মজুমদার শ টুইট করে বলেছেন, “গৌরী লঙ্কেশের খুনের খবর শুনে দারুণ ভাবে মর্মাহত। শুনে শরীরের রক্ত হিম হয়ে যাচ্ছে। এই দৈত্যের মতো অপরাধীগুলোকে ধরে কড়া শাস্তি দিতেই হবে।”

২০১৫-য় প্রখ্যাত পণ্ডিত এবং হাম্পি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ৭৭ বছরের এম এম কালবুর্গিকে কর্নাটকের ধারয়াড়ে তাঁর বাড়ির সামনে এ ভাবেই খুন করা হয়েছিল। পুলিশ ওই খুনের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

গৌরী রেখে গেলেন তাঁর মা, বোন কবিতা এবং ভাই ইন্দ্রজিৎকে। কবিতা চলচ্চিত্র নির্মাতা আর ইন্দ্রজিৎ লঙ্কেশ পত্রিকা চালানোর পাশাপাশি ফিল্মও তৈরি করেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন