ভারতের জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করলে তিন বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে

0
ভারতের জাতীয় পতাকা।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ভারতের জাতীয় পতাকা কী ভাবে ব্যবহার করা যাবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় পতাকাবিধিতে। এই পতাকাবিধি প্রথম গৃহীত হয় ১৯৬৮ সালে। পরে দু’ বার এই বিধি সংশোধিত হয় – ২০০২ সালে এবং ২০০৮ সালে।

২০০২ সালের আগে পর্যন্ত ভারতের সাধারণ নাগরিক জাতীয় ছুটির দিনগুলির বাইরে অন্য সময়ে জাতীয় পতাকা তোলার অধিকারী ছিলেন না। শিল্পপতি নবীন জিন্দাল পতাকাবিধি ভঙ্গ করে তার কার্যালয় ভবনের শীর্ষে জাতীয় পতাকা তোলেন। এই ঘটনায় সেই পতাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাঁকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, এ ভাবে বিধি ভঙ্গ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নবীন জিন্দালের মামলা

নবীন জিন্দাল দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পূর্ণ মর্যাদা ও যথাযথ ব্যবহারবিধি অনুসরণ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা তাঁর নাগরিক অধিকারে পড়ে। কারণ তিনি মনে করেন, এই দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ব্যক্ত করার এটি একটি প্রধান উপায়। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য ভারত সরকারকে একটি কমিটি গড়ার নির্দেশ দেয়। এরই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা জাতীয় পতাকাবিধি সংশোধন করে এবং ওই সংশোধিত বিধি ২০০২ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে চালু হয়। এই নতুন পতাকাবিধিতে বলা হয়, মর্যাদা, গৌরব ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে যে কোনো নাগরিক বছরের যে কোনো দিনেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

অন্য দিকে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন বনাম যশোবন্ত শর্মা মামলায় পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, জাতীয় পতাকাবিধি বিধিবদ্ধ আইন না হলেও এই বিধির নির্দেশসমূহ জাতীয় পতাকার গৌরবরক্ষার্থে অবশ্য পালনীয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকার পরম অধিকার নয়; এটি এক অর্জিত অধিকার এবং সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একে মান্য করা উচিত।

ভারতীয় পতাকাবিধির তিনটি ভাগ:

প্রথম ভাগে জাতীয় পতাকার বিবরণ ও মাপ সম্পর্কে জানানো হয়েছে।

জাতীয় পতাকা কী ভাবে উত্তোলন করতে হবে, কী ভাবে প্রদর্শন করতে হবে, কী ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে ইত্যাদি বিধিনিয়ম রয়েছে দ্বিতীয় ভাগে।

কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং এদের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা কী ভাবে জাতীয় পতাকার প্রদর্শন করবে তা জানানো হয়েছে তৃতীয় ভাগে। এই ভাগের নিয়মাবলির সঙ্গে দ্বিতীয় ভাগের নিয়মাবলির অনেক সাদৃশ্য রয়েছে।      

এক নজরে কিছু বিধিনিয়ম

(১) ভারতীয় জাতীয় পতাকা তিনটি সমান আয়তাকার রঙিন অংশে বিভক্ত – উপরে গেরুয়া, মাঝে সাদা এবং নীচে সবুজ। জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ৩:২।

(২) মাঝের সাদা অংশের মাঝখানে রয়েছে ২৪টি দণ্ডযুক্ত গাঢ় নীল রঙের অশোকচক্র।

(৩) এই পতাকা উত্তোলনের নির্ধারিত সময় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

(৪) জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় গেরুয়া অংশটি উপরের দিকে থাকে এবং সবুজ অংশটি নীচের দিকে থাকে। কোনো ভাবে জাতীয় পতাকা উলটো ভাবে প্রদর্শিত হলে তা অপরাধ বলে গণ্য হয়।

(৫) জাতীয় পতাকা দ্রুত উত্তোলন করতে হয় এবং ধীরে ধীরে নামাতে হয়।  

(৬) জাতীয় পতাকা কখনো মাটি বা জলকে স্পর্শ করবে না।

(৭) জাতীয় পতাকাকে টেবিলক্লথ হিসাবে বা কোনো মঞ্চের সামনে আচ্ছাদন হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

(৮) জাতীয় পতাকায় কোনো মূর্তি, নামলিপি বা শিলান্যাস প্রস্তর আটকানো যাবে না।

(৯) ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় পতাকা বস্ত্র, ইউনিফর্ম বা সাজপোশাক হিসাবে ব্যবহার করা যেত না। ২০০৫ সালের ৫ জুলাই সরকার পতাকাবিধি সংশোধন করে বস্ত্র বা ইউনিফর্ম হিসাবে ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করে। যদিও নিম্নাবরণ বা অন্তর্বাস হিসাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।

(১০) কোনো পানীয়তে ডুবিয়ে পতাকা উত্তোলন করা বা উত্তোলনের আগে ফুলের পাপড়ি ছাড়া অন্য কোনো বস্তু পতাকায় বাঁধা বা পতাকাটিতে কোনো কিছু লেখাও নিষিদ্ধ।

জাতীয় পতাকার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা হলে কী শাস্তি হতে পারে তার বিধান রয়েছে ১৯৭১ সালের দ্য প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার আইনে। এই আইন ২০০৩ সালে সংশোধন করা হয়। ওই আইন মোতাবেক কেউ জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করলে তার তিন বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে। এর পরেও অসম্মান করলে অন্ততপক্ষে এক বছরের জেল হবে।

ভারতের স্বাধীনতা ও এ বারের স্বাধীনতা দিবস নিয়ে আরও প্রতিবেদন এখানে পড়ুন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন