বেঙ্গালুরু: মেট্রো রেল চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঝামেলা পাকল ভাষা নিয়ে। মেট্রো রেলের স্টেশনগুলিতে তিনটি ভাষায় সাইনবোর্ড লেখা হয়েছে – ইংরেজি, হিন্দি আর কন্নড়। এই নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, এ ভাবে ঘুরপথে হিন্দি চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে।

কোন বিধির বলে সাইনবোর্ডে হিন্দি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ব্যাঙ্গালোর মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (বিএমআরসিএল)  কাছে জানতে চেয়েছে  রাজ্য সরকারের সংস্থা কন্নড় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)।

কেডিএ চেয়ারপার্সন এস জি সিদ্দারামাইয়া বলেন, কর্নাটক শপস অ্যান্ড কমার্শিয়াল এস্টাব্লিশমেন্টস অ্যাক্ট অনুসারে কন্নড় ভাষাকে সব সময় প্রাধান্য দিতে হয়। “আমি বিএমআরসিএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কাছে জানতে চেয়েছি, কোন বিধিবলে সাইনবোর্ডে হিন্দি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাতেই ত্রিভাষা সূত্র অনুসরণ করা হয়। বাদবাকি সব জায়গায় কন্নড় ছাড়া আর একটি ভাষা ব্যবহার করা যায়। সে ক্ষেত্রেও কন্নড় ভাষায় অক্ষরের আকার বড়ো হতে হয়।” — সিদ্দারামাইয়া বলেন।

তিনি আরও বলেন, “হিন্দি জাতীয় ভাষা, এ রকম একটা ভুল ধারণা প্রচার করার চেষ্টা হচ্ছে। অন্যান্য ভাষার মতো হিন্দিও একটা সরকারি ভাষা। ওরা যদি এখানকার সাইনবোর্ডে হিন্দি চায়, তা হলে যেখানে হিন্দি প্রধান ভাষা, সেখানকার সাইনবোর্ডেও আমাদের ভাষা রাখতে হবে।”

বেঙ্গালুরু মেট্রোর এমডি প্রদীপ সিং খরোলা এ বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করে। তিনি বলেন, “কেডিএ-র চিঠি পেয়েছি। এটা কেডিএ আর বিএমআরসিএল-এর ব্যাপার। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।”

উল্লেখ্য, বিএমআরসিএল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগ। সিদ্দারামাইয়ার এই চিঠির পর বিএমআরসিএল-এর মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল।

ভাষার ইস্যুতে কন্নড় ভাষা আন্দোলনের কর্মী বটল নাগরাজ বলেন, “মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমাদের ওপর হিন্দি চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। মেট্রো রেলে হিন্দি ব্যবহার করার ঘটনাই প্রথম নয়। এখন যিনি রাজ্যপাল সেই বাজুভাই বালা গুজরাতের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বিধানসভার যৌথ অধিবেশনে হিন্দিতে ভাষণ দিলেন। এর আগের রাজ্যপালরা কোনো দিন হয় কন্নড়ে বক্তৃতা করেছেন, নয়তো ইংরেজিতে।”

মেট্রোয় হিন্দির ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যেই টুইটারে হ্যাশট্যাগ #NammaMetroHindiBeda দিয়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ আন্দোলন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন