bipin rawat

ওয়েবডেস্ক: জম্মু এবং কাশ্মীরের সরকার পরিচালিত স্কুলগুলি ছাত্রদের ভারত সম্পর্কে ভুল বার্তা দিচ্ছে। রাজ্যবাসীর মনেও ক্রমাগত দেশবিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে তুলছে মসজিদ এবং মাদ্রাসাগুলো। সেই দিক থেকে ভারতের ঐক্য সুরক্ষিত রাখতে সেনা দিবসের প্রাক্কালে ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বললেন- জম্মু এবং কাশ্মীরের স্কুলগুলোর পাশাপাশি মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোর উপর কিছু নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন!

শনিবার নয়াদিল্লির এই সাংবাদিক অধিবেশনে সেনাপ্রধান জানিয়েছেন যে জম্মু ও কাশ্মীরের সব সরকার পরিচালিত স্কুলগুলোর শিক্ষাকক্ষে দু’টি করে মানচিত্র থাকে। “তার মধ্যে একটি ভারতের, অন্যটি জম্মু ও কাশ্মীরের। বুঝতে পারছেন, ছাত্রদের মনে কী ভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণা তৈরি করছে স্কুলগুলো? এ রকম যদি চলতে থাকে, তবে ছাত্ররা তো জম্মু এবং কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা ভাবতেই শিখবে। পরিণামে উগ্রবাদ দিন দিন বাড়বে, সমস্যার সমাধান কোনো দিনই সম্ভব হবে না”, জানিয়েছেন বিপিন রাওয়াত।

পাশাপাশি, তিনি জম্মু এবং কাশ্মীরের অধিবাসীদের মনে বিচ্ছিন্নতাবাদ জন্ম নেওয়ার নেপথ্যে দায়ী করেছেন সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজ্যের মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকেও। “সোশ্যাল মিডিয়া বিচ্ছিন্নতাবাদকে মদত দিতে বেশ বড়োসড়ো ভূমিকা নিচ্ছে জম্মু এবং কাশ্মীরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা খুশি প্রচার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ফলে রাজ্যবাসীরাও তার দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন”, জানিয়েছেন সেনাপ্রধান।

অন্য দিকে মসজিদ ও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য- “রাজ্যের মসজিদগুলো যেমন, তেমনই মাদ্রাসাগুলোও মানুষের কাছে ভুল তথ্য প্রচার করছে। বিচ্ছিন্নতাবাদে ইন্ধন দিচ্ছে। তাই আমার মনে হয়, জম্মু এবং কাশ্মীরের স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসার উপরে কিছু নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন!” তবে, তা ঠিক কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ, তা স্পষ্ট করে বলেননি তিনি।

সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য তুমুল ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে জম্মু এবং কাশ্মীরে। সাফ জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে, “যে ক্ষেত্র সেনাপ্রধানের অধীনে নয়, তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য না করাই উচিত!”

“সেনাপ্রধান এই দেশের একজন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি এবং খুবই দক্ষ একজন অফিসার। তিনি পেশাদারও বটে। আমি তাঁর পেশাদারিত্ব নিয়ে কোনো রকম প্রশ্নচিহ্নই তুলতে চাইছি না। তবে আমার মনে হয় না যে তিনি একজন শিক্ষাবিদও, যার নিরিখে তিনি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো উপদেশ দেওয়ার জায়গায় থাকতে পারেন। সত্যি বলতে কী, কোনো সমাজই শিক্ষা নিয়ে এমন কারও মন্তব্য সহ্য করবে না যিনি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত নন”, স্পষ্ট বলেছেন জম্মু এবং কাশ্মীরের শিক্ষামন্ত্রী আলতাফ বুখারি।

শুধু এটুকু বলেই সেনাপ্রধানের সমালোচনায় ক্ষান্ত দেননি বুখারি। সঙ্গে জানিয়েছেন, “যে কোনো রাজ্যের স্কুলেই পড়ুয়াদের দুটি মানচিত্র পড়ানো হয়ে থাকে। একটি দেশের এবং অন্যটি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের। তা না হলে রাজ্য নিয়ে পড়ুয়াদের শিক্ষাদান কী ভাবে সম্ভব হবে! এর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদের কোনো সম্পর্ক আছে বলে তো আমার মনে হয় না।“

বক্তব্যের একেবারে শেষে স্পষ্ট করে বলেছেন বুখারি- “আমরা ভালোই জানি কী ভাবে শিক্ষাদান করতে হয়! সব চেয়ে খুশি হব যদি ওঁরা ওঁদের কাজটা করেন এবং আমাদের কাজটা আমাদেরই হাতে ছেড়ে দেন!” পাশাপাশি সেনাপ্রধানকে শ্লেষবিদ্ধ করতেও ছাড়েননি তিনি। “ওঁরা যদি ওঁদের দায়িত্বটা ভালো করে পালন করেন, তাহলেই দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে আর কিছু থাকবে না। ওঁরা সেটা করে দেখান, তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হবে”, জানিয়েছেন জম্মু এবং কাশ্মীরের শিক্ষামন্ত্রী।

পাশাপাশি, শনিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি-সংক্রান্ত সেনাপ্রধানের একটি মন্তব্য প্রতিবেশী দেশে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর হলেও বিপিন রাওয়াত দাবি করেন যে সরকার একবার হুকুম দিলেই তাঁর সেনাবাহিনী যে কোনো সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানকে তছনছ করার ক্ষমতা রাখে।

এর প্রেক্ষিতে ভারতকে হুমকি দিয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ একটি টুইট করেছেন। “এ ভারতীয় সেনাপ্রধানের অত্যন্ত দায়িত্বহীন এক মন্তব্য, তাঁর দফতরের পক্ষে মোটেও মানানসই নয়। এ তো পারমাণবিক যুদ্ধের আমন্ত্রণ! তবে ভারত যদি তা-ই চায়, তবে আমরা তাদের আমাদের শক্তি পরীক্ষার জন্য স্বাগত জানাই! তাহলেই ভারতীয় সেনাপ্রধানের সব সন্দেহের নিরসন হবে”, লিখেছেন আসিফ টুইটে।

এ ছাড়া আরও একটি টুইট করা হয়েছে আসিফের পক্ষ থেকে। “ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে কোনো ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। পাকিস্তান নিজেদের রক্ষা করার জন্য সব দিক থেকেই প্রস্তুত”, দ্বিতীয় টুইটে জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here