নয়াদিল্লি: বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর বদলে গেল সুর। শুধু তা-ই নয়, রাজস্বসচিব হসমুখ অধিয়ার ঘোষণাকে বেমালুম ‘সংবাদ মাধ্যমের সৃষ্টি’ বলে উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। দু’ দিন আগেই রাজস্বসচিব ঘোষণা করেছিলেন, পুরোনো নোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়কর থেকে রেহাই দেওয়া হবে। এই ঘোষণাকেই পুরোপুরি অস্বীকার করলেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।

তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলি কোনো বিশেষ সুবিধা পাবে না। বিমুদ্রাকরণের ঘোষণার পর থেকে তাদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়া অর্থকেও যেতে হবে আয়কর পরীক্ষাপদ্ধতির মধ্যে দিয়েই। কোনো রাজনৈতিক দলই দানস্বরূপ গ্রহণ করতে পারবে না  পুরোনো ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকার নোট।

অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার সূত্র ধরে নির্বাচন কমিশন প্রস্তাব দিয়েছে, কোনো অজ্ঞাতপরিচয় সূত্রে কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে ২০০০ টাকার বেশি অনুদান নিষিদ্ধ করা হোক।

রবিবার নির্বাচন কমিশন জানায়, নির্বাচনের সময়ে কালো টাকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে  সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে তাঁরা। উল্লেখ্য, অজ্ঞাতপরিচয় সূত্রে থেকে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে অনুদানে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, এত দিন কুড়ি হাজার টাকার বেশি জমা পড়লে একটি ডিক্লারেশন দিতে হত।   

এ দিকে জেটলি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষের মতোই যে কোনো রাজনৈতিক দল চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরোনো নোট জমা দিতে পারবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। আয়ের উৎস সংক্রান্ত প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে আর সবার মতো তাদেরও জেরা করতে পারে আয়কর দফতর।” সাংবাদিকদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, “সমস্ত সাংবাদিক বন্ধুর কাছে আমার অনুরোধ, সরকারি নীতি নিয়ে সমালোচনায় মুখর হওয়ার আগে প্রত্যেকের উচিত বিষয়টি সম্পর্কে গবেষণা করা।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here