কাথুয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ভয়ে চুপিসারে গ্রাম ছাড়ল আসিফার পরিবার

0
1263
asifa rape case

ওয়েবডেস্ক: ধর্ষণে অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ। অভিযুক্তদের মুক্তির দাবিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করছে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। জম্মুতে বন্‌ধ ডেকেছে আইনজীবী সংগঠনও। এই সবে ভয় পেয়েই নিজেদের গ্রাম ছেড়ে চুপিসারে চলে গিয়েছে আসিফার পরিবার।

সূত্রের খবর স্ত্রী, দুই সন্তান আর গবাদি পশুদের নিয়ে জম্মুতে নিজেদের গ্রাম ছেড়ে অজ্ঞাতপরিচয় কোনো জায়গায় চলে গিয়েছেন আসিফার বাবা মোহম্মদ ইউসুফ পুজওয়ালা। আরও জানা যাচ্ছে, সম্ভবত সামনের মাসেই কাশ্মীর ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার আসিফা ধর্ষণ মামলায় চার্জশিট পেশ করে জম্মু কাশ্মীরের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। ঘটনার বিবরণে যা উঠে এসেছে তা কার্যত বীভৎসতার চূড়ান্ত পর্যায় বলা চলে। চার্জশিটে বলা হয়, হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে মুসলিম যাযাবর সম্প্রদায়কে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্যই খুব পরিকল্পনা মাফিক এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

ক্রাইম ব্রাঞ্চ বলছে, যাযাবর গুজ্জর জাতিভুক্ত আট বছরের আসিফাকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছিল গত ১০ জানুয়ারি। যখন সে পোষা ঘোড়া আর ভেড়াগুলিকে চরাতে নিয়ে গিয়েছিল, তখন তাকে অপহরণ করা হয়।

পরের দিন তার পরিবার থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করে। সাত দিন পরে তার মৃতদেহ পাওয়া যায় কাথুয়া জেলারই বসানা গ্রামে। ঘটনাটি নিয়ে ধীরে ধীরে ক্ষোভ বিক্ষোভ বাড়তে থাকে, এক সময়ে বিষয়টি পৌঁছোয় রাজ্য বিধানসভায়। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ক্রাইম ব্রাঞ্চকে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার কথা ঘোষণা করেন।

তদন্তের শুরুতেই দেখা যায় যে ওই শিশুর খোঁজ করতে পুলিশকর্মীরা যখন জঙ্গলে গিয়েছিলেন, তার মধ্যেই এমন দু’জন ছিলেন, যারা মৃতদেহটির পোশাক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর আগে একবার জলে ধুয়ে নিয়েছিলেন। সন্দেহ বাড়ায় তাদের জেরা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে ওই দু’জন পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁরা দু’জনেই ওই হীরানগর থানায় কর্মরত ছিলেন।

তল্লাশি চালিয়ে বসানা গ্রামের একটি মন্দির থেকে কিছু চুল খুঁজে পান তদন্তকারীরা। তাঁদের সন্দেহ হয় যে ওই চুল অপহৃত ও নিহত শিশুকন্যাটির হতে পারে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, ওই মন্দিরের দায়িত্বে থাকা সাঞ্জি রামই নিজের পুত্র আর ভাইপোর সঙ্গে ওই শিশুকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। গুজ্জর সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করাই উদ্দেশ্য ছিল, যাতে তারা ওই এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে এ রকম একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে বাকারওয়াল বা যাযাবর সম্প্রদায়ের ওই মানুষরা গরু জবাই করে আর মাদকের কারবার করে। এ নিয়ে এর আগে দুই তরফেই পুলিশের কাছে বহু অভিযোগ-পালটা অভিযোগ জমা হয়েছে।

চার্জশিটে পুলিশ এটাও উল্লেখ করেছে যে ধর্ষণের আগে ওই মন্দিরে কিছু পুজোও করা হয়। ৬০ বছর বয়সি সাঞ্জি রাম, তার ছেলে বিশাল আর নাবালক ভাইপো, চার পুলিশ কর্মী এবং আরেক ব্যক্তি গোটা ঘটনায় সরাসরি যুক্ত।

ওই কন্যা শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে আসার পরে তাকে মাদক খাইয়ে অচেতন করে রাখা হয়েছিল। তার মধ্যেই তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে এক নাবালকও রয়েছে।

টানা ধর্ষণ করার পরে যখন অভিযুক্তরা ঠিক করে যে এ বার ওই শিশুটিকে মেরে ফেলার সময় হয়েছে, তখন একজন অভিযুক্ত পুলিশকর্মী অন্যদের বলে, “এখনই মেরো না। দাঁড়াও। আমি ওকে শেষ বারের মতো একবার ধর্ষণ করে নিই।” এমনও বলা হয়েছে চার্জশিটে।

কিন্তু যে ভাবে অভিযুক্তদের সমর্থনে জম্মুতে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয় তা এক কথায় অভাবনীয়। একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনও তৈরি হয়ে যায়। ভারতের পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ। তাদের সেই বিক্ষোভে যোগ দেন বিজেপির দু’জন বিধায়কও।

গোটা ঘটনায় কেন্দ্রের মুখ তো পুড়েইছে, কিন্তু সামগ্রিক ভাবে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে যে চর্চা শুরু হয়েছে তাতে দেশ হিসেবে ভারতেরও মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here