তালিকায় নাম আছে তো? ছবি সৌজন্যে নেনাউ।

ওয়েবডেস্ক: রবিবার শেষ হয়েছে বিজেপির দু’দিনের কর্মসমিতির বৈঠক। এই বৈঠকে বারবার নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সমর্থনের সুর শোনা গিয়েছে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের গলায়। “বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের দেশছাড়া করাবই,” বা “নাগরিকপঞ্জির সমালোচকদের নিন্দা করছি,” এ রকম কথা বলেছেন অমিত।

অমিত শাহ যা-ই বলুন, নাগরিকপঞ্জি নিয়ে প্রবল চাপে পড়েছে অসমের বিজেপি। সোমবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে অসম বিজেপির সভাপতি রঞ্জিত দাশ বলেন, “নাগরিকপঞ্জিতে যে ভাবে ভারতীয় গোর্খাভাষী, হিন্দিভাষী, বাংলাভাষী এবং সেই সঙ্গে আদিবাসীদের নাম বাদ পড়েছে সেটা আমাদের খুব ভাবিয়ে তুলেছে।”

আরও পড়ুন নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায় ঢুকে যেতে পারে বাদ পড়া অর্ধেক নামই: সূত্র

গত ৩০ জুলাই নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হয় অসমে। জানা যায় ৩২ কোটি ৯০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ৪০ লক্ষ আবেদনকারীর নাম বাদ পড়েছে এই খসড়া থেকে। যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের জাত বা ধর্ম সক্রান্ত কোনো পরিচয় না জানানো হলেও, বিভিন্ন রিপোর্টে জানা গিয়েছে নাম বাদ পড়েছে অসমের অসংখ্য হিন্দু বাঙালির। চিরাচরিত ভাবেই অসমের হিন্দু বাঙালিরা বিজেপির একটা বড়ো ভোট ব্যাঙ্ক।

এনআরসি সেবাকেন্দ্রে লাইন। ছবি সৌজন্যে এনইনাউ।

অসম বিজেপির চাপ যে বেড়েছে সেটা বোঝা গিয়েছে নাগরিকপঞ্জির সমন্নয়ক প্রতীক হাজেলাকে করা রঞ্জিত দাসের তীব্র আক্রমণে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যতই নাগরিকপঞ্জির সমর্থনে কথা বলুক, অসম বিজেপি যে ব্যাপারটা ভালো ভাবে মেনে নিতে পারছে না, সেটা আগেও আন্দাজ করা গিয়েছে। “অসংখ্য ভারতীয়ের নাম বাদ গিয়েছে” বলে এই মাসের শুরুতেই বিজেপির তিন শীর্ষ স্থানীয় নেতা মন্তব্য করেছেন সংবাদমাধ্যমের সামনে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা নাগরিকপঞ্জির পরে অসম বিজেপি ভোটারদের মন বোঝার জন্য নিজেদের তরফ থেকে কোনো সমীক্ষা করেছে এবং তাতে ফল ভালো কিছু আসেনি। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে তারা।

আরও পড়ুন অসমের বাঙালিদের সামনে এখন দুর্যোগের ঘনঘটা

ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক উদয়ন মিশ্র বলেন, “বিজেপি যা ভেবেছিল, সেই পরিকল্পনামতো ব্যাপারটা এগোয়নি। হিন্দু বাঙালি ছাড়াও বিহারি, নেপালি এবং মাড়োয়ারি এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। এগুলো বিজেপির নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্ক ছিল।”

গুয়াহাটি নিবাসী ইতিহাসবিদ অরূপজ্যোতি শইকিয়া বলেন, “বিজেপি সময় ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে। শেষ মুহূর্তে কোনো অঘটন না ঘটলে হিন্দু বাঙালিদের সমর্থন হারিয়ে ফেলেছে তারা।”

তাঁরা যা চেয়েছিলেন, নাগরিকপঞ্জি যে সেই মোতাবেক হয়নি সেটা মেনে নেন অসম বিজেপির মুখপাত্র রাজদীপ রায়। গোটা দায়টাই তিনি হাজেলার ওপরে চাপিয়ে দিতে চান। সেই সঙ্গে খোলামেলা ভাবেই তিনি বলেন, “১৯৮০ থেকে যে কেন্দ্রগুলোয় আমাদের দখল ছিল, সেই কেন্দ্রগুলো আমরা হারাব।”

আরও পড়ুন নাগরিকপঞ্জিতে নাম নেই অসমের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রীরই

এ দিকে রঞ্জিত দাশ বলেন, তাঁরা বাঙালি, নেপালি, বিহারি এবং মাড়োয়ারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন হাজার হাজার নাম বাদ পড়েছে খসড়া থেকে। তিনি বলেন, “নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায় এই মানুষগুলোর নাম যদি বাদ পড়ে যায় তা হলে তাদের প্রতি চূড়ান্ত অন্যায় হবে।”

রাজ্য বিজেপি কেন হাজেলাকে নিশানা করছে? শইকিয়ার মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাঙালি ভোটারদের কাছে নিজেদের মুখ বাঁচানোর একমাত্র উপায় অন্যের ঘাড়ে দোষ ঠেলে দেওয়া। সেই কারণেই হাজেলার ওপরে দোষ চাপিয়ে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক অক্ষুণ্ণ রাখার আশায় বিজেপি।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন