বর্ষার আগেই বন্যা কবলিত অসম, ধসে বিপর্যস্ত হাফলং

0

হাফলং: হাজার তিনেক ফুট উচ্চতায় অবস্থিত শৈলশহর হাফলং-এর রেলস্টেশনটি ছবির মতো সাজানো। চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা স্টেশন। প্ল্যাটফর্মের ঠিক পাশ দিয়েই উঠে যাচ্ছে পাহাড়। কিন্তু এই অবস্থানই যে হাফলং স্টেশনের বিপদ ডেকে আনবে, তা কে জানত!

প্রবল বৃষ্টির ফলে কাদার স্তূপ নেমে এসেছে হাফলং স্টেশনে। গোটা স্টেশন জুড়ে হাঁটুসমান কাদা। একটি ফাঁকা ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে। পাহাড় ভেঙে জল-কাদা গড়িয়ে যাওয়ার সময় এর পাঁচ-ছয়টি কামরাকে সরিয়ে দিয়েছে। সেগুলি কাত হয়ে দূরে পড়ে আছে।

অনেকটা জায়গা জুড়ে রেললাইন নিশ্চিহ্ন। আরও বহু জায়গায় ট্র্যাকের নীচে থেকে মাটি সরে গিয়েছে। দাওতুহাজা ও ফাইডিংয়ের মধ্যবর্তী তিনশো মিটার এলাকা রেললাইন ঝুলন্ত সেতুর চেহারা নিয়েছে। এর মধ্যে জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ নেই। বিঘ্নিত হচ্ছে জল সরবরাহ। মিলছে না ইন্টারনেট পরিষেবাও।

বর্ষা আসতে এখনও অন্তত দিন পনেরো বাকি। কিন্তু তার আগে অসমের কাছাড় জেলাতেও নদীর জল গ্রামের পর গ্রাম ভাসিয়ে চলেছে। বাড়ছে বন্যার জলে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা। সোমবারই একজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত জেলায় ৪ জন বন্যার শিকার হলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের শিশু তাসমিন বেগমও। করিমগঞ্জ জেলায়ও নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। জগন্নাথ ও চাঁদসীতে বিএসএফ চৌকিতে জল ঢুকে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প উত্তরপূর্ব ভারতের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। ঠিক সেই কারণেই চরম বৃষ্টি হচ্ছে ওই প্রান্তে। পাশাপাশি, মেঘালয় এবং উত্তরবঙ্গের কিছু অংশেও প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। আপাতত বৃষ্টির হাত থেকে কোনো রেহাই নেই।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন