ফাইল ছবি

গুয়াহাটি: কথামতোই প্রকাশিত হল অসমের নাগরিকপঞ্জীর প্রথম খসড়া। রবিবার মধ্যরাতে এই খসড়া প্রকাশ করলেন ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল শৈলেশ। প্রথম খসড়ায় রাজ্যের ৩.২৯ কোটি নাগরিকের মধ্যে ১.৯ কোটিকে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও শৈলেশ জানিয়েছেন, এটি প্রথম খসড়া। পরবর্তী খসড়ায় আরও নাম যুক্ত হবে। প্রক্রিয়াটি চলছে। এছাড়া সব খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পরও আবেদন নেওয়া হবে। তার ভিত্তিতেই তৈরি হবে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জী।

বাংলাদেশ থেকে অসমে অনুপ্রবেশ সে রাজ্যের একটি পুরোনো সমস্যা। সে কথা মাথায় রেখেই ১৯৫১ সালে প্রথম খসড়া তৈরি হয়েছিল ‘এনআরসি’ বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস। সেই সময় খসড়া তৈরি হলেও কখনও তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এই প্রথম তা প্রকাশ্যে আনা হল।

২০০৫ সালে এই নিয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। তারপর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং অসমের শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন অল অসম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন(আসু)-এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়। বিষয়টি গড়ায় আদালতেও। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ীই প্রকাশিত হল এদিনের খসড়া। পরবর্তী খসড়া কবে প্রকাশিত হবে, সে বিষয়ে এপ্রিলে নির্দেশ দেওয়ার কথা শীর্ষ আদালতের। তবে গোটা প্রক্রিয়াটি ২০১৮ সালের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে।

এদিকে এই নাগরিকপঞ্জী ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও টেনশনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে গোটা অসমে। অনেকেই মনে করছেন এর পেছনে রয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি-র নিজস্ব রাজনীতি। সব দিক মাথায় রেখে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামলাতে গোটা রাজ্য নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, যাদের নাম প্রথম তালিকায় ওঠেনি, তাঁদের চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ প্রতিটি পরিবারের সব সদস্যের নাম-বংশপঞ্জী যাচাই করার প্রক্রিয়াটি জটিল ও দীর্ঘ। তাছাড়া সরকারি কর্মচারীদের এ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতাও নেই। তাই ভুলত্রুটি এবং অসম্পূর্ণতা থাকতেই পারে। সেগুলো পরবর্তী পর্যায়ে ঠিক করে এবং যুক্ত করে নেওয়া হবে।

কিন্তু কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও দুশ্চিন্তা কমছে না প্রথম তালিকায় ঠাঁই না পাওয়া অসমবাসীর।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন