দারিদ্র্য কোনো বাধা নয়! সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ চা বিক্রেতা, ডাক্তারি পড়বেন দিল্লি এইমসে

0
মায়ের সঙ্গে রাহুল। ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: নিজের স্বপ্নের প্রতি যদি সঠিক আবেগ, আন্তরিকতা বজায় থাকে, তা হলে কোনো গন্তব্যে পৌঁছোনোই অসম্ভব নয়। সে কথাই প্রমাণ করলেন অসমের বজলি শহরের ২৪ বছর বয়সি যুবক রাহুল দাস।

রাহুলের মা একটি চায়ের দোকান চালান। সেখানেই মায়ের কাজে হাত মেলান রাহুল। ফলে এ ধরনের পরিশ্রমের কাজ করার পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া যে মোটেই সহজ কাজ নয়, সেটাও অস্বীকার করার নয়। কিন্তু নিজের কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠায় জয় করেছেন সমস্ত প্রতিবন্ধকতা। প্রথম বারের চেষ্টাতেই সর্বভারতীয় স্তরে ডাক্তারি পড়ার পরীক্ষা নিট পাশ করেছেন রাহুল। দিল্লি এইমস-এ পড়ার জন্য আসনও পেয়েছেন তিনি।

ঘটনায় প্রকাশ, ১১ বছর আগে রাহুলের বাবা তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। মা একা হাতে রাহুল এবং তাঁর ভাইকে বড়ো করেছেন। দারিদ্র্যের কারণে মাধ্যমিক পাশ করার পর পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি। রাহুল জানান, মাকে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখেছেন তিনি। দোকানে সহকারি রাখতে না পারায় পড়ালেখার ফাঁকে নিজেই চা বানানো ও পরিবেশনের কাজ করতেন।

আবার ২০১৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করলেও আর্থিক উপার্জনের জন্য ফের তাঁকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল। তবে সবসময়ই পড়াশোনা করার ইচ্ছেটা বেঁচে ছিল। যে কারণে দু’বছর পরে প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা করার জন্য সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব পেট্রোকেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (সিআইপিইটি) ভরতি হন। সেখানে তিন বছর থাকার পর, তিনি সফল ভাবে উত্তীর্ণ হয়ে ২০২০ সালে গুয়াহাটির একটি বহুজাতিক সংস্থায় কাজে যোগ দেন।

কিন্তু চাকরি পেয়েও সন্তুষ্টি আসেনি। কারণ, তাঁর লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া। সেটাই তো প্রথম থেকে চেয়ে এসেছেন। ফের একটা ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন। চাকরি ছেড়ে দিলেন রাহুল। নিটের জন্য প্রস্তুতি শুরু হল। কোচিং দূরের কথা, বই কেনার টাকা নেই। অনলাইনেই ভরসা করে এগিয়ে চললেন। তার পর নিট পরীক্ষা দিয়ে প্রথম বারের চেষ্টাতেই উত্তীর্ণ। সর্বভারতীয় স্তরে ১২,০৬৮তম স্থান অর্জন করলেও জাতিগত এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমতার শংসাপত্র তাঁকে দিল্লি এইমস-এ ভরতি হওয়ার সুযোগ পেতে সাহায্য করেছে।

রাহুল জানান, তাঁর মা যাঁর জমিতে দোকান চালান, সেই মন্টুকুমার শর্মা এবং জেলা প্রশাসনের তরফ থেকেও তাঁদের অনেক সাহায্য করা হয়েছে। কারণ, মন্টু তাঁর মায়ের কাছ থেকে দোকান বাবদ কোনো ভাড়া নেন না।

আরও পড়তে পারেন: স্টেশনের কুলি থেকে দেশের প্রথম সারির সরকারি কর্তা, ইউপিএসসি পাশ করে লক্ষ লক্ষ প্রার্থীর অনুপ্রেরণা আইএএস শ্রীনাথ

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন