himanta biswa sharma

ওয়েবডেস্ক: মানুষের সঙ্গে যা কিছু খারাপ হয়, তা তার পাপের ফল। সে ক্যানসার হোক বা কোনো দুর্ঘটনা। সম্প্রতি এহেন মন্তব্য করেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নিয়েছেন অসমের বিজেপি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তার পর দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া নিন্দার স্রোতে ভেসে গেলেও ভুল স্বীকার করতে নারাজ তিনি। সাফ বক্তব্য তাঁর, তিনি ভুল কিছু বলেননি। বরং তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন বিরোধীরা।

বিতর্কিত এই বক্তব্যে জানিয়েছিলেন হিমন্ত, আমরা যখন পাপ করি, তখন ভগবান আমাদের শাস্তি দেন। মাঝে মাঝেই আমরা শুনতে পাই অমুক তরুণ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে বা অমুকের কোনো বড়ো রকমের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভাল করে খোঁজ নিলেই জানা যাবে যে এ তার কৃতকর্মের ফল। তার বেশি আর কিছুই নয়।

বক্তব্যকে আরো একটু স্পষ্ট করার জন্য বলেছিলেন মন্ত্রী, পাপ যে এই জন্মেই হয়েছে, তা নাও হতে পারে। হয়তো এ তার পূর্বজন্মের ফল। অথবা পাপটি করেছে আক্রান্তের পরিবার। কিন্তু সেই পাপের দায় বহন করতে হচ্ছে তাকেও। আসলে দৈবপ্রদত্ত শাস্তির হাত থেকে কেউই রেহাই পায় না।

এর পর স্বাভাবিক ভাবেই শুরু হয়েছিল তীব্র সমালোচনা। তার জেরেই বৃহস্পতিবার ফের মুখ খুলেছেন হিমন্ত। টুইট করে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বক্তব্যে অনড় রয়েছেন এবং থাকবেন। ভাল করে আমার বক্তব্যটা দেখুন। আমি একবারও বলিনি, পাপের ফলেই মানুষের ক্যানসার হয়। এই কথা আমি বলেছিলাম শিক্ষকদের সৎপথে থাকতে উদ্বুদ্ধ করতে, গরিবকে সাহায্য করতে। অন্যথায় তাঁদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতেই হবে। বিজ্ঞান কিন্তু আমাদের মূল্যবোধ সংক্রান্ত কিছু শেখায় না। শেখায় ধর্ম। সে কথাই আমি বলতে চেয়েছিলাম!

পরে এই মর্মে আরো একটি টুইট করেন মন্ত্রী। সেখানে তিনি লেখেন, আমি কারও সঙ্গে তর্ক করতে চাই না। এটুকুই বলব, সুযোগ ছিল, তাই আমাদের ধর্মসংক্রান্ত কিছু কথা বলেছি। আমরা তো এটাও স্বীকার করে নিই যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণেরও মৃত্যু হয়েছিল কৃতকর্মের ফলে। এটাই তো আমাদের দর্শনবোধ!

মন্ত্রী যাই বলুন না কেন, রাজনৈতিক মহলে তাঁকে নিয়ে বিদ্রুপ চলছেই। পি চিদাম্বরম যেমন তাঁর টুইটে বেশ কড়া ভাবেই ব্যঙ্গ করেছেন হিমন্তকে। সেখানে বলেন, রাজনৈতিক দলবদলও একটি পাপ। হিমন্তর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি-তে যাওয়াকেই ইঙ্গিত করেছেন চিদম্বরম। আবার কপিল সিব্বলও হিমন্তকে কটাক্ষ করে টুইটে লিখেছেন যে ক্যানসার যদি দৈব সুবিচার হয়, তবে হিমন্তের মতো ব্যক্তির দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাটা দৈব অবিচার!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here