২৮ নভেম্বর ভোট মিজোরামে।

নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: সমতলের মতো নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার, দেওয়াল লিখনে মুখ ঢাকেনি মিজোরামের রাজধানী শহর আইজল। নেই মাইকের দাপাদাপিও। নির্বাচনমুখী মিজোরামে দলীয় ক্যাডারদের দাপাদাপিও চোখে পড়ার মতো নয়। যা আছে তা হল বাড়ি বাড়ি ভোটারদের কাছে গিয়ে প্রচার। বিভিন্ন দল প্রচার-অভিযানের জন্য হাতিয়ার হিসাবে বেছে নিয়েছে এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপকেও।

বিরোধী নেতা মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এমএনএফ) প্রার্থী ভান লাল জোয়মাও ভোটারদের দরজায় গিয়ে প্রচারের ওপর সহমত পোষণ করে জানিয়েছেন, এতে ব্যক্তিগত ভাবে ভোটারদের সঙ্গে কথাবার্তা চালানো যায়। গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপরে নজর রাখা মিজো পিপলস ফোরাম বরাবরই প্রার্থীদের এক মঞ্চে বসে নিজেদের নির্বাচনী ইস্তেহার নিয়ে আলোচনায় উৎসাহ দেয়। আদতে মিজোরামের শাইহার বাসিন্দা বর্তমানে চাকরিসূত্রে আইজলে থাকা লালডিয়াংলি য়ানি এই প্রতিবেদককে ফোনে জানিয়েছেন নির্বাচন এগিয়ে এলে কিছু কিছু এলাকায় নির্বাচনী সংগীত শোনা যেতে পারে। এ প্রজন্ম নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় বেশির ভাগই প্রকাশ্যে উত্তাপহীন।

আরও পড়ুন ভোটের আগে হঠাৎ বসুন্ধরার প্রশংসায় সচিন পায়লট, কেন?

ত্রিপুরা লাগোয়া মামিত জেলায় রয়েছে যথেষ্ট সংখ্যক ব্রু (রিয়াং শরণার্থী) ভোটার। এই ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে ত্রিপুরা থেকে বিজেপির নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। যথেষ্ট সংখ্যক চাকমা ভোটার থাকা এলাকায়ও বিজেপি জোর দিয়েছে। বৰ্তমানে মিজোরামের প্রত্যন্ত এলাকায় ভোট প্রচারে ব্যস্ত মিজোরাম বিজেপির সভাপতি অধ্যাপক জে ভি হুলনা। তিনি এই প্ৰতিবেদককে ফোনে জানিয়েছেন, “বিজেপি ৬ জন মহিলাকে প্রার্থী করেছে। খ্রিস্টান অধ্যুষিত মিজোরামে ভালোই সমর্থন পাচ্ছে দল। তাই বিরোধীরা যতই প্রচার চালাক মিজোরামের প্ৰত্যন্ত এলাকায় বিজেপির নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া গিয়েছে।”

যদিও বরাবরই কংগ্রেসের বোলবালা দেখা গিয়েছে মিজোরামে। কখনও কখনও আঞ্চলিক দল ‘মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ও দাপট দেখিয়েছে। কিন্তু এ বার খ্রিস্টান অধ্যুষিত এই রাজ্যে খাতা খুলতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। বরাবরই মিজোরামের জনজীবনে দেখা গিয়েছে গির্জার প্রভাব। মিশন ফর ক্রাইস্ট গির্জার কার্যবাহী সদস্য ও সর্ব সময়ের মিশনারি রেভারেন্ড ডাঃ এলআর কোলনী এ বার আইজল পশ্চিম ৩ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী। তাঁকে গির্জা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মিশন ফর ক্রাইস্টের সভাপতি রেভারেন্ড লালচুংনূংগা জানিয়েছেন, “বহিষ্কারের পেছনে কোনো রাজনীতি নেই। কোলনী একজন সর্বসময়ের মিশনারি তাই রাজনীতি করতে পারেন না তিনি।”

গেরুয়া শিবির একাই ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনে মোট ৩৯টি আসনের সব ক’টিতে লড়তে চলেছে। লুংলেই পূর্ব কেন্দ্রে বিজেপি-র হয়ে লড়াইয়ে রয়েছেন ইউনাইটেড পেন্টেকোস্টাল মিশনের সদস্য রেভারেন্ড লালরুয়াতা। কংগ্রেস অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী লালথানহাওলার কেরিশমার উপর নির্ভর করছে। কংগ্রেস দলের ভালো ভোট ব্যাংকও রয়েছে গোটা মিজোরাম জুড়ে।

আরও পড়ুন ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীর দৈনিক খরচের পরিমাণ কমাল নির্বাচন কমিশন!

ন্যাশনাল পিপলস পার্টিও লড়ছে নির্বাচনে। দল জোর দিয়েছে তরুণ প্রার্থীদের ওপর। তবে মিজোরামের আঞ্চলিক দল মিজো ন্যাশনাল  ফ্রন্টের সংগঠনও যথেষ্ট মজবুত সেখানে। এ দিকে গেরুয়া শিবিরও এ বার চাইছে খাতা খুলতে। বর্তমানে উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে একমাত্র মিজোরামেই কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিতে রয়েছে অকংগ্রেসি সরকার। কাজেই মিজোরামের তখ্‌ত হারালে গোটা উত্তরপূর্ব যে হয়ে পড়বে কংগ্রেস-শূন্য সে কথা বলাই বাহুল্য।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here