শুক্রবার রাত ১০:৪৪ থেকে চন্দ্রগ্রহণ শুরু। ছবি: রয়টার্স

ওয়েবডেস্ক: যে কোনো ধরনের গ্রহণের সময়েই কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে যায় মানুষের মন। সেই কুসংস্কারকে দূর করতে আসরে নেমেছেন ভারতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

চন্দ্রগ্রহণ চলাকালীন কিছু খাওয়া যায় না, এই কুসংস্কার বেশ প্রচলিত। সেই না-খাওয়ার কুসংস্কারকে দূর করার জন্য বিশেষ প্রচারে নেমেছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিয়ে ভারতের সংগঠন, অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)।

শুধু তা-ই নয়, চন্দ্রগ্রহণের ছ’ঘন্টা ১৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ড সময়ে খাবার খেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করারও আবেদন করেছে তারা। হ্যাশট্যাগ ‘এক্লিপ্সইটিং’ দিয়ে সেই ছবি পোস্ট করার কথা বলা হয়েছে।

এএসআইয়ের এক সদস্য অনিকেত সুলে বলেন, “চন্দ্রগ্রহণের সময়ে অনেক বাবা এবং গুরু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বলেন ‘খেয়ো না’। এই ভ্রান্তি আমরা দূর করতে চাই। আমরা বোঝাতে চাই যে গ্রহণের সময়ে খেলে মানুষের কোনো ক্ষতিই হবে না।”

সুলের মতে, প্রাক-বিদ্যুৎ যুগ থেকে এই ধরনের কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে, যখন গ্রহণকে বাড়িতে নেমে আসা অন্ধকার হিসেবে ব্যাখ্যা করা হত। এই অন্ধকারে পোকামাকড় ছড়িয়ে পড়লে খাবার নষ্ট হয়ে যাবে, সেই ধারণা থেকেই এই কুসংস্কারের উৎপত্তি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, “এতে কুসংস্কারের কিছুই নেই। এটা শুধুমাত্র ছায়ার খেলা। এর ফলে চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী, কেউ তাদের স্বাভাবিক চরিত্র বদল করে না।”

আরও পড়ুন জুলাইয়ে শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ, দেখা যাবে ভারত থেকেও, জেনে নিন বিস্তারিত

এর পাশাপাশি আরও একটা ধারণা খণ্ডন করে দিয়েছেন তাঁরা। সেটি হল সূর্যগ্রহণের মতো খালি চোখে চন্দ্রগ্রহণ না দেখার ধারণা। এক জ্যোতির্বিজ্ঞানীর কথায়, “খালি চোখে চন্দ্রগ্রহণ দেখলে চোখের কোনো ক্ষতি হয় না।”

সুতরাং শুক্রবার চন্দ্রগ্রহণকে এক নতুন মাত্রা দিতে তৈরি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। যেখানে কোনো কুসংস্কারের ছায়া থাকবে না। থাকবে শুধু অনাবিল আনন্দ আর খোলা মনে খালি চোখে চাঁদকে দেখা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here