ওয়েবডেস্ক: ইনি সেই রোহিণী সিং, ২০১১ সালে রবার্ট বঢরার সঙ্গে ডিএফএল-এর চুক্তির খবর সামনে এনেছিলেন যিনি। হ্যাঁ, হইচই সে দিনও হয়েছিল, দিন কয়েক ছিলেন শিরোনামে, রাজনৈতিক মহলে বিস্তর চর্চাও হয়েছিল তাঁকে নিয়ে। কিন্তু এমন হেনস্থা করা হয়নি তাঁকে, এটা রোহিণীর নিজের মত। অমিত-পুত্র জয়ের সংস্থার লাভ রাতারাতি ১৬ হাজার গুণ বেড়ে যাওয়ার খবর দু’দিন আগেই প্রকাশ করেন সাংবাদিক রোহিণী সিং। তার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ‘হট টপিক’। হেনস্থার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাংবাদিক নিজেও বেছে নিলেন ওই একই মঞ্চ – ফেসবুক।

আরও পড়ুন: মোদীর আমলে ১৬,০০০ গুন বেড়ে যায় অমিত শাহের ছেলের ব্যবসা, রিপোর্টে তোলপাড় দেশ

গত রবিবার অনলাইন সংবাদ পোর্টাল দ্য ওয়ার ডট ইন-এ প্রকাশিত হয় জয় শাহের সংস্থার খবরটি। প্রতিবেদক রোহিণী সিং। খবরটি এ রকম। কৃষি সামগ্রী আমদানি-রফতানি সংস্থা টেম্পল এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড। ২০১৪ সাল পর্যন্ত যাদের কোন বার্ষিক লাভ হত না, বরং ক্ষতির পরিমাণ ছিল এক – সাত হাজার টাকা। সংস্থাটি প্রথম লাভের মুখ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে, আঠারো হাজার টাকার সামান্য বেশি। ১৫-১৬ অর্থবর্ষে ব্যবসার পরিমাণ অবিশ্বাস্য রকম বেশি – ১৬ হাজার গুণ, ৮০.৫  কোটি। পরের বছর ফের লোকসান এবং নোটবন্দির আগে দিয়ে সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ। এ সবই কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্থা রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজকে দেওয়া টেম্পল এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেডের তথ্য। এই নিয়ে রোহিণীর প্রতিবেদন সাড়া ফেলল সারা দেশে। সংস্থার মালিক জয় শাহ বললেন, রোহিণীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটির মানহানির মামলা করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থকরা ফেটে পড়লেন বিক্ষোভে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ বলছেন রোহিণী টাকা নিয়ে ‘পেইড নিউজ’ করেন। কেউ চালাচ্ছেন আরও সাংঘাতিক অপপ্রচার। রোহিণী সিং নাকি ইকোনমিক টাইমস-এর সাংবাদিক ছিলেন, ভুয়ো খবর ছড়ানোর কারণে তাঁর চাকরি চলে যায়।

ক্রমাগত হেনস্থার শিকার হতে হতে সোমবার ফেসবুকেই একটি পোস্ট করেন রোহিণী। বলেন, “অন্য সাংবাদিকরা কে কী করবেন, সেটা বলা আমার কাজ না। আমি শুধু আমার কাজ নিয়ে কথা বলতে পারি। সত্যি খুঁজে বের করে আনাটাই আমার কাজ। ২০১১ সালে রবার্ট বঢরার খবর প্রকাশ্যে নিয়ে আসার সময় আমায় এতটা অপমানিত হতে হয়নি, যতটা আজ হচ্ছি। বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠ কেউ আমার ফোনে আড়ি পেতেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমায় নিয়ে খুব সস্তা, নিচু মানের প্রচার চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবে ক্ষমতাশালী লোকেরা সব সময়ই চান প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকদের তাঁদের কথা মতো ওঠাবেন বসাবেন। কেউ এক জন বলেছিলেন, যে খবর চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়, সেটাই খবর। বাকি সব বিজ্ঞাপন। আর কেউ মনে রাখুক না রাখুক, এই কথাটা আমি সারা জীবন মনে রাখব। আমার আশে পাশে অনেকেই সাংবাদিকতার নামে যা করছেন, আমাকেও যদি সে রকম কিছু করতে হয়, তার চেয়ে সাংবাদিকতা ছেড়ে দেওয়া অনেক ভালো। নিজের সাহস প্রদর্শন করার জন্য আমি খবর করি না। যেটা করি সেটা সাংবাদিকতা”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here