avni
অবনী। ছবি দ্য নিউজ মিনিট।

ওয়েবডেস্ক: ‘অবনী’র হত্যা নিয়ে মহারাষ্ট্রের বন দফতর যে দাবি করেছিল, তার সঙ্গে মিলছে না ময়না তদন্তের সাক্ষীর রিপোর্ট। উল্লেখ্য, এ মাসের গোড়ায় যবতমলে ‘মানুষখেকো’ হয়ে যাওয়ার অপরাধে বাঘিনি টি ১ তথা ‘অবনী’কে বনকর্মীরা গুলি করে হত্যা করে।

বন দফতর দাবি করেছিল, ওই বাঘিনিকে ঘুমপাড়ানি গুলি মারার পরে সে বনকর্মীদের দলটির দিকে তেড়ে যায়। তখনই বনকর্মীরা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। ওই গুলিতে বাঘিনিটি মারা যায়।

কিন্তু রাজ্য বন দফতরের প্রতিনিধি ময়না তদন্তের সাক্ষী হিসাবে যে রিপোর্টে জমা দিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে, ‘অবনী’কে যখন গুলি করা হয়, তখন সে বন্দুকবাজের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে ছিল। আর তার বাঁ থাইয়ে যে ডার্ট (ক্ষুদ্র অস্ত্র) আটকেছিল, তার প্রভাব দেখে মনে হচ্ছে না সেটি ঘুমপাড়ানি বন্দুক থেকে ছোড়া হয়েছিল।

‘অবনী’র ময়না তদন্ত করেন চার পশু চিকিৎসক এবং ময়না তদন্তের সাক্ষীর রিপোর্ট পেশ করেন নাগপুরের বন্যপ্রাণ জীববিজ্ঞানী মিলিন্দ পরিবকম। ‘অবনী’র ময়মা তদন্তে রাজ্য বন দফতরের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মিলিন্দ।

আরও পড়ুন মহারাষ্ট্রের পর এ বার উত্তর প্রদেশে, ফের বাঘিনী খুন
৩ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের প্রিন্সিপ্যাল চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্টস (ওয়াইল্ডলাইফ) এ কে মিশ্র বলেছিলেন, ২ তারিখে শিকারি আসগর আলি খান এবং ঘুমপাড়ানি বন্দুক নিয়ে বনকর্মীদের একটি দল একটি গাড়িতে চেপে যখন টহল দিচ্ছিল, তখন রালেগাঁও অঞ্চলে তাঁরা বাঘিনির সামনাসামনি পড়ে যান। মিশ্রর কথায়, “ফরেস্টার মুখবির শেখ তাকে লক্ষ করে একটি ঘুমপাড়ানি অস্ত্র (ডার্ট) ছোড়েন। তাতে বাঘিনি খেপে গিয়ে বনকর্মীদের দলটির দিকে তেড়ে আসে। তখন নিজেদের বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ৮-১০ মিটার দূর থেকে আসগরকে গুলি ছুড়তে হয়।”

সাক্ষীর রিপোর্ট সম্পর্কে মিশ্র বলেন, তিনি এখনও রিপোর্টটি খতিয়ে দেখেননি। “আমি এ ব্যাপারে সোমবারের আগে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারব না। তবে ২ নভেম্বরের ঘটনা নিয়ে বন দফতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সুতরাং এ সম্পর্কে এখন কিছু মন্তব্য করলে সেটা আগে বলা হয়ে যাবে।”

‘অবনী’ হত্যা নিয়ে রাজ্যের বনমন্ত্রী সুধীর মুনগান্তিবর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই তদন্তকারীদের দলে অন্যরা ছাড়াও রয়েছেন দু’ জন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ – ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার বিলাল হাবিব এবং ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ট্রাস্টের অনীশ অন্ধেরিয়া।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here