ইচ্ছে আর আত্মবিশ্বাসে ভর করে এগোচ্ছে ভারতের নারীশক্তি, উদাহরণ অরুন্ধতী ভট্টাচার্য

দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার প্রথম মহিলা চেয়ারপার্সন অরুন্ধতী ভট্টাচার্য। অবসর নিয়েছেন, তবে এখনও উজ্জ্বল স্ব-কৃতিত্বে।

0

কলকাতা: সমাজের উন্নতির জন্য নারীদের শিক্ষিত করা জরুরি। সেই প্রচেষ্টাই অব্যাহত কয়েক শতাব্দী ধরে। ভারতে উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে তাতে জোয়ার আসে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ নারীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্ন, আজাদি কি অমৃত মহোৎসবে ‘নারী শক্তি’ আবির্ভূত হবে ‘রাষ্ট্রশক্তি’ হিসেবে।

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছেন নারীরা। লিঙ্গ বৈষম্যের প্রভাব এখনও পুরোপুরি ঘুঁচলেও রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে সমস্ত ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের অধিকারী তাঁরা। এ প্রসঙ্গে চলে আসে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার প্রথম মহিলা চেয়ারপার্সন অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের (Arundhati Bhattacharya) নাম।

কে এই অরুন্ধতী ভট্টাচার্য

কলকাতায় জন্ম। ১৯৭৭ সালে কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে স্নাতক অরুন্ধতী ভট্টাচার্য। বোকারো স্টিল প্লান্টে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত পিতার অবসরের পর পারিবারিক দায়িত্বপালনেই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ। এর পর তাঁর কেরিয়ারের উত্তরণ অনেকটাই স্বপ্নের মতোই।

ট্রেনি থেকে তিনি এসবিআইয়ের চিফ ফিন্যান্স অফিসার এবং এমডি হন। তার পরেই ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর তিনি দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের প্রথম মহিলা চেয়ারম্যানের কৃত্বিত্ব অর্জন করেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে অবসর নেওয়ার কথা থাকলেও এক্সটেনশনের কারণে তিনি ওই পদ থেকে অব্যাহতি নেন পরের বছরের অক্টোবরে।

দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি

এসবিআই-এর চেয়ারপার্সন থাকাকালীন এক বার কলকাতায় এসে অরুন্ধতী বলেছিলেন, “পরিস্থিতি বুঝে ঠিক করতে হবে, কোন ক্ষেত্রে কখন সময় দিতে হবে। যিনি বাড়ি ভালো সামলাতে পারেন, তিনি অফিসের কাজও ভালো সামলাতে পারবেন। ভালো করে কাজ করার ইচ্ছে ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কাউকে আটকানো যায় না”। যা তিনি প্রমাণ করেছেন নিজেই।

২০১৬ সালে ফোর্বস তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ২৫ জন মহিলার তালিকায় বেছে নেয়। একই বছর, তিনি ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের ‘এফপি শীর্ষ ১০০ গ্লোবাল থিঙ্কার্সে’র মধ্যে স্থান পান। ফরচুনের বিচারে এশিয়া প্যাসিফিকের সবচেয়ে শক্তিশালী চতুর্থ মহিলা হিসেবে মনোনীত হন।

২০১৭ সালে, ইন্ডিয়া টুডে ম্যাগাজিন ভারতের ৫০ জন সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির তালিকায় ১৯তম স্থানে রাখে অরুন্ধতীকে। ২০১৮ সালে এশিয়ান অ্যাওয়ার্ডে বছরের সেরা বিজনেস লিডার নির্বাচিত হন অরুন্ধতী।

এখনও উজ্জ্বল স্ব-কৃতিত্বে

এসবিআই থেকে অবসরের পর ২০১৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা উইপ্রোর বোর্ড অব ডিরেক্টর্সে যোগ তিনি। ওই বছরেই মুকেশ অম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের স্বাধীন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টরপদে যোগ। কাজের মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর।

২০২০ সালে সেলসফোর্স-এর ভারতীয় বিভাগের চেয়ারপার্সন এবং চিফ এগজিকিউটিভ হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করে সিআরএম-এর এই সংস্থা। বর্তমানে একটি গ্লোবাল পেমেন্ট নেটওয়ার্কের অংশ সুইফট ইন্ডিয়ার চেয়ারপার্সন তিনি। পাশাপাশি স্বাধীন ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন রেটিং সংস্থা ক্রিসিল-এ। পরে ইস্তফা দেন।

আরও পড়তে পারেন: কোনো অংশে পিছিয়ে নেই ভারতের নারীশক্তি, দৃষ্টান্ত ফাল্গুনী নায়ার

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন